পাহাড়ি রিসোর্ট শুকতারা

শাহীন আহমেদ

এখন শরৎকাল। চারদিকে সবুজ হয়ে উঠেছে বৃক্ষ জগৎ। এমন সময় অনেকের মনে স্বপ্নেরা উঁকি দেয়, আহা যদি সবুজের মাঝে, বৃষ্টির বর্ষিত রাতে, গ্রামের কোনো টিনের ছাদের বাড়িতে রাত কাটাতে পারতাম- স্বপ্নময় রাত। পাঠক, হতাশার কিছু নেই। ব্যবস্থা করে রেখেছে শুকতারা রিসোর্ট। রিসোর্টের অবস্থান সিলেট শহর থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরে। শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার গেট থেকে একটু এগিয়ে বামে মোড় নিয়ে মিনিট ২ এগোলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত শুকতারা। শহরের এত কাছে নিবিড় বনের পাহাড়ি অবস্থান আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর চারদিকের সবুজ গাছপালা আপনাকে ডাকবে- আয় আয়। টিলার খাড়া পথে একটু কষ্ট করে ওপরে উঠতে হবে। তবে ভয়ের কিছু নেই। কয়েক দিন বাদেই চালু হবে ট্রেন। ওপরে উঠে প্রথমেই চোখে পড়বে ৩ তলা বিশিষ্ট একাশিয়া রেস্টুরেন্ট। দ্বিতীয় তলায় খাবারের আয়োজন। পাশে একটি প্রায় ৪০ জনের মিটিং রুম। তৃতীয় তলায় বসার, আলাপচারিতার ঘর। পাশে একটি রুমজুড়ে পাঠাগার। সিলেটের স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভ্রমণের বই আছে। নিচতলায় গায়ে হলুদ, করপোরেট মিটিং বা যে কোনো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রতিটি তলায় আছে নান্দনিকতা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। আছে ব্যালকনি। মুক্ত হাওয়া গ্রহণের উত্তম আয়োজন। আসুন এবার একটু উপরে উঠি। একাশিয়া থেকে বেরিয়ে যেতে হবে উজান পথে। পূর্বের রাস্তা ধরে। ওখানেই আপনার বিশ্রাম নিবাস। থাকার রুম। ওপরে উঠেই চোখে পড়বে খোলা মঞ্চের মতো জায়গা। বনাক কোর্ট। এবার আপনি দিশেহারা হবেন অপার মুগ্ধতায়। যে দিকেই তাকাবেন সবুজের হাতছানি। দূরে সুরমা নদী। তারপর সারি বাঁধা আকাশছোঁয়া পাহাড়। মেঘালয় রেঞ্জ। এখানে শরতে আকাশ রূপ খোলে নিজ আনন্দে। সে এক মাতাল করা দৃশ্য। আসুন রুমে ঢুকি। রুমে ঢুকেই দেখা মিলবে অন্যরকম মুগ্ধতার। রুমের সবকিছুতেই আছে শিল্পের ছোঁয়া। বেতের তৈরি চেয়ার, টেবিল, খাট, মোড়া। খোলামেলা রুম। খোলা বারান্দা। চাইলে রুমে বসেই দেখতে পারেন পাহাড় আর সবুজের মিতালি। বারান্দার ওপরে টিনের চাল। বৃষ্টিমুখর রাতে প্রিয়জন সঙ্গী করে আপনার অবস্থান হবে স্মৃতিময়। রুমের ছাদে বসেও উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতি সুধারূপ। রিসোর্টের নান্দনিক কিছু শিল্পকর্মের কাজ করেছেন নন্দিত ভাস্কর অলক রায়। আছে ইয়াং স্টারের কিছু পেইন্টিং আর আলোকচিত্র। রিসোর্টে অবস্থানকালীন রাতে থাকবে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বাউল সংগীত। মণিপুরী নৃত্য। খাবারের পাতে থাকবে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার। বেড়ানোর জন্যও খুব দূরে যেতে হবে না। পাশেই খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, বরজান চা বাগান, শাহ বদর মোকাম, খাদিম জাতীয় উদ্যান, টিলাগড়ে রিজার্ভ ফরেস্ট, শাহ পরাণ, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার। সোয়াম্প ফরেস্ট। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, জৈন্তা রাজবাড়ী, সারি নদী, লালাখাল। একটু দূরে মাধবকু- জলপ্রপাত, টাঙ্গুয়া হাওর, হাকালুকি হাওর, লাউয়াছড়া ফরেস্ট আরো কত কী। আপনি চাইলে উত্তম গাইড দিয়ে দেখানোর ব্যবস্থাও রেখেছে শুকতারা। শুকতারা এ নান্দনিক আয়োজনের কারিগর জেরিনা হোসেন। নিজেই আর্কিটেক্ট। স্বামী মোহাম্মদ হোসেন মুরাদ বিশ্ব ট্রাভেলার। দুজনে স্বপ্ন দিয়ে বুনেছেন এ নকশিকাঁথা-শুকতারা।
কীভাবে যাবেন
সড়ক, রেল ও আকাশ পথে ঢাকা থেকে সরাসরি সিলেট যাওয়া যায়। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকেও আসা যায়। ঢাকা থেকে গ্রিন লাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহনের এসি বাস যায় সিলেটে। ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর, সায়েদাবাদ প্রভৃতি জায়গা থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া, মামুন পরিবহন, সিলকম পরিবহন ইত্যাদি সংস্থার নন-এসি বাসও সিলেটে যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৬৯৮ টাকা, এসি সিট ৪৬০ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪২৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৭০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৪৬০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮০ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা, সুলভ ৯৫ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টায় যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় উদয়ন এক্সপ্রেস। প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪৬৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ৩২০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৫৩৫ টাকা, শোভন চেয়ার ২১০ টাকা, শোভন ১৯০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারের বিমান নিয়মিত উড়াল দেয় সিলেটের আকাশে। সিলেট শহর থেকে সিএনজিচালিত বেবি-ট্যাক্সিতে শুকতারা আসতে ভাড়া লাগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s