৪ হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু নয় : অর্থমন্ত্রী [সোনালী ব্যাংক কেলেঙ্কারি]

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ৪ হাজার কোটি টাকা তেমন কোনো বড় অঙ্ক নয়। তিনি বলেন, বছরে যেখানে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ আদান-প্রদান হয় সেখানে ৪ হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু নয়। এ নিয়ে হইচই করারও কিছু নেই। দেশের ব্যাংক সেক্টর ধ্বংস হয়ে
গেছে_ সংবাদ মাধ্যম এমন প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে সরকারকে।
তিনি আজ বুধবার মিডিয়াতে সোনালী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারি বিষয়ে তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেবেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার দফতরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এভাবে সমালোচনার জবাব দেন অর্থমন্ত্রী। গোলটেবিলের আয়োজক ছিল ইউএসএআইডি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রগতি ও এমআরডিআই।
গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। এতে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। ড. অনন্য রায়হানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা।
বিশ্বব্যাংক, শেয়ারবাজার এবং সংবাদ মাধ্যমের কড়া সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি সেকশন যেন একটি জিহাদি বিভাগ। এই বিভাগের সংশোধন দরকার। শেয়ারবাজারে যে দুর্নীতি হয়েছে তার বিরুদ্ধে কেউ দুদকে সাক্ষী দেন না অথচ রাস্তায় আন্দোলন করেন। দেশের সংবাদ মাধ্যমেরও সংস্কারের (রিফর্ম) দরকার আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
গোলটেবিল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনীতির জন্য কালো টাকা একটি মারাত্মক সমস্যা। তবে কালো টাকা থাকবে এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, দুর্নীতি দূর করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খুবই ভালো একটি উপাদান। দুর্নীতি দমনে অর্থমন্ত্রী আজ থেকে ৫০ বছর আগের মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ৪ থাকাকালে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ওই সময় কোনো একটি মহল্লা কিংবা গ্রামে একজন চোর কিংবা ডাকাতের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে বিচার হত। এ নিয়ে কারো কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না। তবে সবাই জানত কে ডাকাত কিংবা চোর। এভাবে বিভিন্ন জনের সাক্ষ্য থেকে অভিযুক্ত অপরাধীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হত। আমি নিজেও এ ধরনের শাস্তি দিয়েছি। দুর্নীতি দমনে আমি এ ধরনের একটি পদ্ধতি চাই। শাস্তিস্বরূপ ওই অপরাধী প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা দিত। সেই সঙ্গে মধ্যরাতে ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে দেখা হত সে বাড়িতে রয়েছে নাকি চুরি করতে গেছে।
তিনি বলেন, জেলায় জেলায় সবাই কথা বলে কিন্তু বাস্তবে সমর্থন পাওয়া যায় না। যেমন সমর্থন পাওয়া যায় না শেয়ারবাজারের ঘটনা নিয়ে দুর্নীতি দমনের সাক্ষীর ক্ষেত্রে। অনলাইন পেমেন্ট স্মার্ট কার্ড দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করেছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s