চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

আজিজুল ইসলাম মামুন

টর্নেডো কদাচিৎই আঘাত হানে। খর রৌদ্রতাপে বাতাস হালকা হলে চারদিক থেকে ঘন বাতাস সেদিকে ছুটে আসে। তাতে টর্নেডোর জন্ম হয়, কিন্তু টর্নেডো প্রতিদিন হয় না। ডেসটিনি-বৈশাখী বিপিএলে বেশ কয়েকটি টর্নেডো আঘাত হেনেছিল! কখনো ক্রিস গেইল, কখনো আহমেদ শেহজাদ ব্যাট হাতে টর্নেডোর জন্ম দিয়েছিলেন। কয়েকটি টর্নেডো ইনিংস বরিশাল বার্নার্সকে তুলে দেয় প্রথম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফাইনালে। কিন্তু ফাইনালে কোনো টর্নেডো তৈরি করতে পারেনি বরিশাল। ফলে খুব কাছে গিয়েও শিরোপা স্পর্শ করা হল না নাটকীয়ভাবে ফাইনালে পা রাখা বরিশাল বার্নার্সের। পরিকল্পিত ক্রিকেটে বরিশাল বার্নার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম ডেসটিনি-বৈশাখী বিপিএল শিরোপা জিতল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।
ম্যাচ শুরুর আগে টস ভাগ্য কথা বলেছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস অধিনায়ক মাশরাফির হয়ে। বসন্তের রাতে কুয়াশাভেজা ঘাসের সুবিধা পেতে মাশরাফি ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান বরিশাল বার্নার্সকে। ব্যাট করতে নেমে ৪৬ রানে শেহজাদকে হারিয়ে বার্নার্সের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফুরিয়ে যায়। অধিনায়ক ব্রাড হজের দৃঢ়তাপূর্ণ ৭০* রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৪০ রানের চ্যালেঞ্জ দেয় বার্নার্স। ১৪১ রানের পিছু ধাওয়া করতে নেমে শুরুতেই নাজিমউদ্দিনকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরান নাজির ও আনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে চড়ে ৮ উইকেটের জয়ে প্রথম ডেসটিনি-বৈশাখী বিপিএল শিরোপা ঘরে তোলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরান নাজির ৭৫ রানে আউট হলেও আনামুল ৪৯* রানে অপরাজিত থাকেন।
সেমিফাইনালে ১৮৪ রান চেজ করতে নেমে ২৩ রানে জীবন পেয়েছিলেন আহমেদ শেহজাদ। ওই সুযোগে তিনি ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে যা করেছিলেন তাতে কচুকাটা হয়েছিল দুরন্ত রাজশাহী! আর ‘শেহজাদ-শো’ ফাইনালে তুলে নেয় বরিশাল বার্নার্সকে। ফাইনালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল বলে! ব্যক্তিগত ১২ রানে ধীমান ঘোষের কল্যাণে প্রায় আকাশছোঁয়া বলে জীবন পান শেহজাদ। পরের বলে দারুণ এক ছয়ে জবাব দিয়েছিলেন! কিন্তু এযাত্রা বেশিদূর উড়তে পারেননি শেহজাদ, ২০ বলে ২৮ রান করার পরই আফ্রিদির বলে আজমলের ক্যাচ হয়ে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। তখন ৪.২ ওভার শেষে বরিশাল বার্নার্সের সংগ্রহ ৪৩ রান। ৪৮ রানে মাস্টার্ড (৫) সাঈদ আজমলের বলে লেগবিফোর হলে বার্নার্সের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সঙ্গে এক প্রান্ত দিয়ে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলও শুরু হয়।
এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অপর প্রান্তে নিজ ভূমিকায় অবিচল ছিলেন বার্নার্স অধিনায়ক ব্রাড হজ। একটি উইকেট পড়েছে, তিনি আরেকজন নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। সেই প্রতিরোধযুদ্ধ ভেঙে পড়েছে, আরেকজনকে নিয়ে চেষ্টা করেছেন। এভাবেই খড়কুটো আগলে রেখে ম্যাচে ঠিকে থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন হজ। সেই চেষ্টাতেই নিজেদের ইনিংস শেষে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি পুঁজি পেয়ে যায় বরিশাল বার্নার্স। যদিও সংগ্রহটা নির্ভর করার মতো ফুলে-ফেঁপে ওঠেনি। নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেটে বরিশালের সংগ্রহ ১৪০ রান। যার অর্ধেক রানই এসেছে ব্রাড হজের ব্যাট থেকে। ওপেন করতে নেমে ৫১ বলের মোকাবিলায় ৪টি করে চার ও ছয়ে ৭০* রানে অপরাজিত ছিলেন হজ। আফ্রিদি তার ৪ ওভারের কোটায় শেহজাদ, মিথুন ও ফরহাদ হোসেনকে আউট করে বড় কোনো জুটি গড়ে তোলার সুযোগ দেননি।
প্রথম বিপিএল শিরোপা জিততে ঢাকার সামনে ১২০ বলে ১৪১ রানের চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের পিছু ধাওয়া করতে ওপেনিং জুটিতে ইমরান নাজিরের সঙ্গী হিসেবে নামেন নাজিমউদ্দিন। তুলনামূলক ছোট লক্ষ্য, দুই ব্যাটসম্যান হিসাব কষেই ব্যাট করছিলেন। দলের হিসাবের খাতায় ২৬ রান যোগ হতেই নাজিমউদ্দিনের সোহরাওয়ার্দী শুভকে তুলে মারার খায়েশ জাগে। তাতেই ১২ বলে ১৩ রান করে মমিনুলের ক্যাচে পরিণত হন নাজিম। ওয়ানডাউনে নাজিরকে সঙ্গ দিতে নামেন তরুণ আনামুল হক বিজয়। তারা দুজনে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচের সব উত্তেজনা শেষ করে দেন। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে নাজির যখন আউট হন, ততক্ষণে জুটিতে যোগ হয়ে যায় ১১৬ রান। নাজির ৪৩ বলে ৬টি করে চার ও ছয়ে ৭৫ রান করে আলাউদ্দিন বাবুর শিকার হন। আনামুল ৩৮ বলে ৫ চার ও এক ছয়ে ৪৯* রানে অপরাজিত থাকেন। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ১৫.৪ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়সূচক ১৪৪ রান তুলে নেয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s