ডেসটিনি আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে

ডেসটিনি আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে

মুহিবুল মুরসালিন

প্রতিভা মানুষের মাঝে সুপ্তাবস্থায় থাকে, যা কোনো কিছুর সাহচর্যে এলে প্রস্ফুটিত হয়। আর তখনই মানুষ জেগে ওঠে। তবে মানুষের এই প্রতিভা বিকাশ ঘটে ক্ষেত্র বিশেষ স্থানকালপাত্র ভেদে। পিএসডি মুহিবুল মুরসালিনের প্রতিভার বিকাশ ঘটে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সাহচর্যে এসে। ডেসটিনিই তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি অবিরাম গতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৬৪ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ থানার চরকুমাইরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম, মা মরহুম সফুরা খাতুন। শিক্ষা জীবনে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি পাস করেন।
বিবাহিত জীবনে তিনি ১ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক। তার স্ত্রী নাজমা বেগম ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পেশায় জড়িত এবং ২ সাইকেল অর্জন করেছেন। তার মেয়ে শায়মা শবনম মিরপুর কমার্স কলেজে বিবিএ অধ্যয়নরত। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় জড়িত। তিনি এ ব্যবসা করে সুখে আছেন।
তিনি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ডাইরেক্ট সেলিং পেশায় আসেন ২০০১ সালে। যখন এ কোম্পানি মাত্র হাঁটতে শিখেছে। তবে তিনি নানা প্রতিকূলতার কারণে গত প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত এ পেশা থেকে দূরে ছিলেন। এরপর তিনি আবার বর্তমান ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর কর্পোরেট মেম্বার জাকির হোসেন কিসলুর তত্ত্বাবধানে ফিরে আসেন এবং তারই অনুপ্রেরণায় নতুনভাবে কাজটি শুরু করেন। সে থেকে অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে কাজটি করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ২০১১ সালে ৫১১ স্টেটমেন্টে পিএসডিশিপ অর্জন করেন। তার এই পিএসডি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা ছিল তার তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন কিসলুর। তিনি বহুদিন পর হলেও এ পেশায় এসেছেন কেন জানতে চাইলে বলেন, এ পেশায় এসেছি আমার জীবনের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। তিনি আরো বলেন, তিনি এ পেশায় এসেছেন আরো কয়েকটি বিশেষ কারণে। আর তা হচ্ছে, এ পেশায় স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আছে। অপরকে সহযোগিতা করা যায় এবং আনলিমিটেড আয় করা সম্ভব, যা অন্য কোনো পেশায় সম্ভব নয়। তাছাড়া এ পেশায় একটা স্থায়ী আয়ের সুযোগ রয়েছে, যা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে বাকি জীবনে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের নিশ্চয়তা দেয়। অথচ এ পেশায় তেমন কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই। এই অফারগুলো বুঝতে পারেননি বিধায় এ ব্যবসা থেকে এতদিন দূরে ছিলেন। এখন বুঝতে পেরেছেন বলে নির্দ্বিধায় এ পেশাকে জীবনের একমাত্র পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এ পেশায় একজন মানুষ কিভাবে সফল হতে পারে? জানতে চাইলে বলেন, এ পেশায় সফল হতে হলে এ ব্যবসার কনসেপ্ট বুঝতে হবে এবং এজন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। কোম্পানির কার্যক্রমে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। নিজের প্রতি কনফিডেন্স থাকতে হবে। স্ব স্ব আপলাইনকে গুরু মেনে তার সফল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নিয়মিত টিম মিটিং করতে হবে। ডাইরেক্ট সেলিং সংক্রান্ত বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ সংক্রান্ত বই-পুস্তক পড়ে পড়ে এম.এল.এম. কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তাছাড়া মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন লালন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকতে হবে। এ পেশায় সফল হতে হলে নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট। ইচ্ছা না থাকলে এখানে কেন কোথাও সফল হওয়া সম্ভব নয়।
এখনো এদেশের কিছু মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসাকে বাঁকা চোখে দেখেন। এ ব্যাপারে তার মন্তব্য কি জানতে চাইলে বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে ট্র্যাডিশনাল ব্যবসার কনসেপ্ট বুকে লালন করে আছে। যে কারণে ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসার কনসেপ্টকে স্বাগত জানাতে পারছেন না বিধায় বাঁকা চোখে দেখছেন। তাদেরকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার কনসেপ্ট বুঝতে হবে। যে দায়িত্বটি আমরা যারা ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদেরই পালন করতে হবে। তাহলেই তারা এ ব্যবসার প্রতি অনুপ্রাণিত হবে। শুধু তাই নয়, দলে দলে এ ব্যবসায় সম্পৃক্তও হবে। আর আমি মনে করি সেই সময়টি এখন এসে গেছে। সঙ্গত কারণেই ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সদস্যসংখ্যা ৫০ লাখের ওপরে। আমি মনে করি এ ব্যবসাটি অদূর ভবিষ্যতে এ দেশের ট্র্যাডিশনাল ব্যবসার স্থানটি দখল করে নিতে সক্ষম হবে। সেদিন ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসা হবে এ দেশের প্রচলিত ব্যবসা। ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসা নিশ্চিত করবে আমাদের লাইফস্টাইল। তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কি জানতে চাইলে বালেন, আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হচ্ছে আমি ২০১৩ সালের মধ্যে ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ হবো এবং ২০১৫ সালের মধ্যে ক্রাউন অ্যাম্বাসেডর হবো। অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার পর সমাজের জন্য এ কাজ করায় নিজেকে প্রস্তুত করব। আমার ইচ্ছা অন্যান্য সামাজিক কর্মকা-ের পাশাপাশি কোরআন ও বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করব। যেখানে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা গবেষণার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান আমার জীবনকে আলোকিত করেছে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি আমার জীবন বিলিয়ে দেব। যাতে এদেশের প্রতিটি মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। নিজের অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া আমার এলাকার অভাবী মানুষের জন্য ছোটখাটো করে হলেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। যেখানে কাজ করে অসহায় মানুষ একটু ভালো থাকবে। আর সেটা করব ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সহযোগিতায়। তাই আমার সাকসেস লাইনের প্রতি পরামর্শ আপনারা এ পেশায় যখন এসেই গেছেন খুবই ভালো করেছেন। সুতরাং সবাইকে অবশ্যই সফল হতে হবে। আর এই সফলতার মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। সে লক্ষ্যে মন-প্রাণ দিয়ে ডেসটিনিকে ভালোবেসে কাজ করতে হবে। এ পেশাকে একান্তই নিজের পেশা মনে করে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডেসটিনির মাধ্যমে এ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমাদেরই আনতে হবে। তবেই ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর প্রয়াস সার্থক হবে।
গ্রন্থনা : আবুল হোসেন খান

Advertisements

One thought on “ডেসটিনি আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে

  1. ”চলুন স্বপ্ন নিয়ে কথা বলি” স্বপ্ন দেখা মানুষকে আমি খুব ভালবাসি।
    তাই Learn and earn network business | বাংলাদেশের প্রথম নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বিষয়ক সম্পূর্ণ বাংলায় প্রশিক্ষন সুবিধা নিয়ে তৈরি সাইটটিতে সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছি। এখান থেকে ফ্রি প্রশিক্ষন ব্যবহার করে নিজের স্বপ্নকে সত্যি করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s