ডেসটিনি প্রতারণা করে না (part – 2)

ডেসটিনি প্রতারণা করে না

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ডেসটিনি-২০০০ লিঃ ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নিয়ে যেসব বিভ্রান্তিকর
প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন
বৈশাখী টেলিভিশনে ‘গ্রামীণ জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে (শনিবার মধ্যরাতে) সেসব বিষয়ে বিশদ বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর সে বক্তব্যের প্রথম অংশ গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। আজ তুলে ধরা হল বাকি অংশ।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আপনাদের কোনো কথা হয়েছে?
উত্তর : আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে বলছি।
প্রশ্ন : রিপোর্ট পাননি?
উত্তর : না, আমরা পাইনি। আমাদেরকে দেওয়া হয়নি অফিসিয়ালি। আমরা যা দেখেছি পত্রিকাতে দেখেছি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি কি আপনাদের কাছে এসেছিলেন?
উত্তর : দুজন এসেছিলেন। তারা এসেছিলেন বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন ও ভিজিলেন্স বিভাগ থেকে। মানে আমাদের এখানে কোনো মানিলন্ডারিং হচ্ছে কি না উনারা এসেছিলেন সেটা দেখার জন্য। দেখতে আসার পর আমরা বলেছি আমরা তো কোনো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করি না। তখন তারা বললেন আমাদেরকে হেলপ করেন। আমরা কিছু জিনিস আপনাদের কাছ থেকে জানতে চাইব। তারা একটি সাদা কাগজে এটা কত নন-প্রফেশনাল অ্যাপ্রোচ, তাদের কিন্তু আসা উচিত ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা কভার লেটারে। তা না করে তারা কি করেছে, ওইখানে অফিসে বসেছে ৪৫ মিনিট। আমাদের প্রত্যেকটা অফিসে কিন্তু সিসি ক্যামেরা থাকে। আপনারা যদি দেখতে চান আপনাদের রেকর্ড দেখাতে পারব। ওই ভদ্রলোকেরা সিঁড়ি দিয়ে এসে ৪৫ মিনিট ছিল। এই কম সময়ে এত বড় প্রতিষ্ঠানের তদন্ত করা সম্ভব নয়। কি করলেন, উনারা এসে বললেন, ১৫টা জিনিস আমাদের দেন। হাতে লেখা। কেন উনারা কি এটা করতে পারতেন না, ঠিক আছে আমরা এখন চলে যাচ্ছি। আমরা টাইপ করে নিয়ে আসছি আপনাদের কাছে কি চাচ্ছি। উনারা এলেন মানিলন্ডারিং করছি কি না জানতে। কিন্তু যখন দেখলেন যে, এখানে মানিলন্ডারিংয়ের কিছু নেই তখন বললেন প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র, সনদের কপি ইত্যাদি বলে ১৪/১৫টি জিনিস চাইলেন। সময় ৪৫ মিনিট। চাওয়ার পর আমরা কিছুদিন পর সেগুলো সরবরাহ করেছি। এরপর নিয়ম হচ্ছে তারা আমাদের কাছে একটা রিপোর্ট পাঠাবে যে, আপনাদের কাছে এগুলো চাওয়া হয়েছিল দিতে পারেননি বা আপনাদের এই জিনিসগুলো ক্লিয়ার নয়। এগুলোর জবাব দিন। তাহলে আমরা আবার যাব। তারা আসবে এটিই হচ্ছে ইনভেস্টিগেশনের নিয়ম। কিন্তু আমি দেখেছি একতরফা শুধু একদিন একটা কাগজে সেখানে লিখছেন_ বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা ও ভিজিলেন্স বিভাগের ৬.০২.২০১২ তারিখের ইস্যুকৃত নির্দেশিকা নং ৪৩-এর আলোকে ভিজিলেন্স দলকে নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। আমরা এগুলো সরবরাহ করেছি। করার পর তো বলবে যে, ওই জিনিসটা মিসিং আছে বা আমাদের একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আপনারা এগুলো করছেন কেন? আর সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে, আমি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। আমি জানি না উনারা কখন এসেছেন। উনারা কখনই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি। আমার ব্রাঞ্চে যাকে পেয়েছেন তাকে কাগজটা দিয়ে এসেছেন। তার নাম আকবর হোসেন সুমন। সে প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারার। ভাগ্য ভালো যে, সে যথাসময়ে কাগজপত্র সাপ্লাই দিতে পেরেছে। সাপ্লাই দেয়ার পর কাজটা কি ছিল। চেয়ারম্যানের কাছে এসে বলা যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু অবজারভেশন আছে। এই জিনিসগুলোতে আমরা সেটিসফাইড নই, এগুলো সেটিসফাইড করেন। তখন যদি আমরা সেটিসফাইড করতে না পারতাম তাহলে আপনি একটা রিপোর্ট তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু আমরা কিছুই জানি না। আমরা জানলাম কার কাছ থেকে_ পত্র-পত্রিকা থেকে। আমাদের ব্যাপারে একটা ইনভেস্টিগেশন হয়েছে হাজার হাজার টাকা লন্ডারিং করেছি, হাজার হাজার কোটি টাকা।
প্রশ্ন : আপনার দুজন শীর্ষ পরিচালক অস্ট্রেলিয়ায় আপেল চাষের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, আপনার লন্ডনে বাড়ি আছে।
উত্তর : আমি একটা কথা বলব আজকে। যদি অস্ট্রেলিয়া কেন, পৃথিবীর কোনো দেশে ৫০০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকার কোনো বাগান নয়, যদি জমি দেখাতে পারেন, বাংলাদেশ সরকার এটা দখল করে নেবে। সরকারকে অধিকার দিয়ে দিলাম। আর লন্ডনে আমার যে বাড়ির কথা বলছে, যারা রিপোর্ট করেছে তাদের দিয়ে দেওয়া হল। এগুলো বাকওয়াজ কথাবার্তা।
প্রশ্ন : আপনি বিদেশে যান না, বিদেশে এমএলএম নিয়ে কাজ করেন?
উত্তর : আমরা বিদেশে গেলে হোটেলে থাকি। আমরা বিদেশে এমএলএম করব, প্ল্যান করেছি। টেকনোলজি আমরা বিক্রি করব। ইস্তাম্বুলে আমরা একটা কনফারেন্সে জয়েন করেছি। এখানে ওয়ার্ল্ডের নাম করা এমএলএম কোম্পানি। তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তারা বলল ডযধঃ রং ফবংঃরহু? তোমাদের বয়স কত? ১১ বছর বয়স। বলল ১১ বছরে তোমরা এখানে চলে এসেছ। বাংলাদেশ এমএলএম বুঝে? হ্যাঁ, বুঝে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে। এমওয়ের প্রেসিডেন্ট, যিনি বললেন ঠিক আছে আমি বাংলাদেশে আসব। কথা বলার জন্য। তারা ৬০ বছরের পুরনো কোম্পানি। তারা যখন আমাদের এনকারেজ করল যে, তোমার প্রযুক্তি যদি ভালো হয় আমাদের প্রমোট করো। আমরা তোমাকে রয়্যালিটি দেব। তখন আমার মাথার মধ্যে ক্যাচ করলো আমার এই সিস্টেম যদি বাংলাদেশে সত্যিই একসেপটেবল হয় তাহলে ডযু হড়ঃ ড়ঁঃংরফব. তখন আমি বাইরের কয়েকটি দেশের লোকাল লোকদের সংগঠিত করলাম, বললাম তোমরা বিনিয়োগ কর। আমি প্রযুক্তি দেব। আমাকে রয়্যালটি দিতে হবে। অলরেডি কয়েকটি দেশের ম্যান্ডেট পেয়েছি। যারা অফিস নিয়ে নিজেরা প্রতিষ্ঠান চালাবে আমার শুধু মাসে এক-দু’বার গেলেই হবে। আমি সেখানে গিয়ে সেট করে দেব। ডেসটিনি ওয়ার্ল্ডওয়াইড করবো, এর পেছনে আমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ফরেন কারেনসি আর্ন করা। দেখেন, আমাদের দেশ থেকে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট করে আর্ন করা হচ্ছে, অন্যান্য জিনিস এক্সপোর্ট করে আর্ন করা হচ্ছে। ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট করে আর্ন করা হচ্ছে। এই প্রথায় আমি ভিন্ন ধারার চিন্তা এনেছি। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি এক্সপোর্ট করে কীভাবে আর্ন করা যায়। দ্যাট ইজ দ্য টেকনোলজি। এ বছর আমরা প্ল্যান করেছি ৬/৭টা দেশে জয়েন্টভেঞ্চারে যাব। এখানে আমার দাবি ছিল ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি হিসেবে আমাকে ৭০% রয়্যালি দিতে হবে। তারা বলছে, এটা কি করে সম্ভব?
প্রশ্ন : অর্থ পাচারের বিষয় আপনি অস্বীকার করছেন? এটা যদি তদন্ত করা হয়?
উত্তর : এর কোনো প্রাপ্তি নেই। তবুও যদি তদন্ত করে পরিচালকের নামে কিছু পান, তা বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে দান করে দেবেন। আর এটা যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে লিখেছে_ তাদের বিষয়ে সরকারের কাছে, প্রশাসনের কাছে আবেদন করব যারা লিখেছে তারা নিশ্চয়ই টাকাটি কীভাবে গিয়েছে জানে। দয়া করে তাদেরকে ধরে তাদের মাধ্যমে তাদের পেছনে আমরাও যাব টাকা নিয়ে আসার জন্য। টাকা বাইরে থাকার দরকার নেই। টাকা রাখার নিরাপদ জায়গা হচ্ছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর যে কোনো দেশের সুস্থ মানুষ নিজের দেশে টাকা রাখতে চাইবেন। কারণ সেখানে তার এভিডেন্স বেশি।
প্রশ্ন : বলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় আপেল বাগানের ৫০০ কোটি টাকা। এই আপেল বাগান দেখবে কে, আর আপেল খাবে কে?
উত্তর : তাহলে এগুলো লেখা হচ্ছে কেন? এটা কিন্তু একটা মহলের উদ্দেশ্যমূলক উস্কানি। আমরা একটা উদ্দেশ্য নিয়েছি বাংলাদেশে ২০১২ সালের মধ্যে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান করব। যেখানে আমাদের লাখ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর সফলভাবে দু’পয়সা আয় করছে, যারা আজকে মাস্টার্স করার পরে ১০ হাজার টাকার একটা চাকরি পেত কি-না, সেই সংশয় তাদের মধ্যে ছিল। অথচ আজকে তারা ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তাদেরই সুস্থ অবস্থানকে বিভ্রান্তিমূলক ডাইভার্ট করার জন্য একটা, হ্যাপাজার্ড একটা অবস্থা করার জন্য একটা কথা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, এ কথা সাধারণত মানুষ বা ডিস্ট্রিবিউটররা শুনে তাদের একটি প্রথমে খটকা লাগবে, যে আমরা এত কষ্ট করে বিপণন করছি আর পরিচালকরা ৫০০ কোটি টাকা বিদেশ নিয়ে যাচ্ছে কেন।
প্রশ্ন : আপনারা যত টাকা সদস্যদের কাছ থেকে নিয়েছেন তত টাকা তো আপনাদের নেই। এখন যদি আকস্মিকভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাদের কি টাকা ফেরত দিতে পারবেন? তারল্য সংকট তো আপনাদের অভ্যন্তরেই রয়েছে? হিসাব ব্যবস্থাপনা ঠিক না বলে অভিযোগ আছে।
উত্তর : এগুলো ঠিক না। তিনটি কোম্পানি নিয়ে কথা হচ্ছে। ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কোনো গ্রাহক বলতে কিছু নেই। কোনো আমানত আমাদের কাছে থাকে না। বিক্রি করার পরে সপ্তাহ শেষে যা হিসাব হয় সঙ্গে সঙ্গে তা লেনদেন হয়ে যায়। তার মানে ডেসটিনি ২০০০ লি: আল্লাহ না করুক যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় বা কেউ বন্ধ করে দেয় কোনো অপশক্তি, তাহলে দেখা যাবে এক সপ্তাহের গ্রাহকের কমিশন দেওয়া হয়নি। কারণ এক সপ্তাহ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কমিশন দিয়ে দিচ্ছি। আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারটা এক সপ্তাহের মধ্যে মিটমাট হয়ে যাচ্ছে। ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কোনো লায়াবিলিটি নেই, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণ নেই। ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। কারো কাছে কেউ দায়বদ্ধ নয়। দায় শুধু এক সপ্তাহের ক্রেতা-পরিবেশকদের পাওনা। তাহলে ওই এক সপ্তাহ যে ৩০-৩৫ হাজার লোকের পাওনা সেটা হয়তো দেওয়া যাবে না; কিন্তু তার আগের সব পাওনা মিটমাট হয়ে গেছে। ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশনে ৫-৭ বছরে আমাদের টোটাল লেনদেন হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। আপনি তো পেপারে দেখলেন হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন আল্লাহ না করুক ফেল করলে ডিস্ট্রিবিউটরদের চেয়ে কোম্পানি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিষ্ঠান কিছু লাভের জন্য করেছে। আমরা ৭ কোটি চারাগাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। অলরেডি দেড় কোটি লাগানো হয়েছে। যারা ৬ বছর মেয়াদে বিনিয়োগ করেছে তারা এ বছর মে মাস থেকে টাকা পাওয়া শুরু করবে। ৭০-৮০ হাজার গ্রাহকের। আর আপনারা দেখবেন কাজটা আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারছি কি-না?
এখন প্যানিক সৃষ্টির জন্য যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার একটাই উদ্দেশ্য। আমাদের সেলগুলো যেন আর আগে বাড়তে না পারে। মানুষ যেন ভয় পায়, আমরা তো আবার যুবকের মতো একটা বিপদে পড়তে যাচ্ছি, আমি ক্রেতা পরিবেশকদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলব, আপনারা গত ১১টি বছর আমাদের কাজকর্ম দেখেছেন, যদি এতটুকু বিশ্বাস আপনাদের থাকে, আপনারা লাইনে চুপ করে থাকেন, একটি লোকেরও প্রতারণার সুযোগ রাখিনি।
প্রশ্ন : আপনারা ভাড়া অফিসে থাকেন, ভাড়া বাসায় চলেন; কিন্তু অভিযোগ আছে সদস্যদের টাকায় যে জমি কেনা হয়, তা অনেক পরিচালকের নামে কেনা হয়?
উত্তর : না এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : কিছু পরিচালক সদস্যদের কষ্টার্জিত টাকায় প্রচ- ধনী হয়ে উঠেছেন, আরএনডি বা গবেষণার নামে, কমিশনের নামে প্রচুর টাকা জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
উত্তর : আগের কথাটা বলি। কথাটা হচ্ছে আমাদের যারা পরিচালক তারা ডিস্ট্রিবিউটরও বটে। আমাদের যারা পরিচালক তাদের কেউ ডায়মন্ড, কেউ ক্রাউন। আমাদের হোসাইন সাহেব তো ক্রাউন অ্যাম্বাসাডর, স্বপন ক্রাউন, গোফরান ডায়মন্ড, আমি ডায়মন্ড। আমরা কিন্তু অলরেডি পরিবেশক। হাজার পরিবেশক যেমন ইনকাম করছে, তারাও ইনকাম করছে, আমরা মনে করি শুধু যদি সেলারির ওপর নির্ভর করে আমরা ভাত খেতে পারব না, আমরাও পরিবেশক হয়ে বসে আছি। আমরাও কমিশন পাই। আমার ওয়াইফও পরিবেশক। এখানে কোনো গ্রাহকের টাকা দিয়ে জমি কেনার সুযোগ নেই। কারণ গ্রাহককে বিদায় করতে হচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যে। ঘটনা হচ্ছে যারা আমরা দীর্ঘমেয়াদে টাকা খাটিয়েছি, যারা বলতে আমিও আছি।
যেমন আমাদের একটি প্যাকেজ আছে ডিআইবিসি প্যাকেজ। এ প্যাকেজটা হচ্ছে আপনারা এখানে ২০ হাজার টাকা খাটান ৬ বছরে আড়াই গুণ হবে। এখানে রিপোর্টের মধ্যে লিখছে অতি উচ্চ হারে সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। ১৬ শতাংশ, আপনি বলে দিয়েছেন ১৬ শতাংশ কি খুব বেশি উচ্চহারে হচ্ছে? আমি তো দেখলাম ১৮% ইন্টারেস্টে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকে।
ডেসটিনি মালটিপারপাস প্রথম উদ্যোগ নিচ্ছে ৯ শতাংশ ইন্টারেস্টে টাকা দেবে। ডিজিটাল প্ল্যান একটা এবং এটা হচ্ছে সিঙ্গেল ডিজিট। যেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নরের স্বপ্ন ছিল আমরা কিভাবে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে পারি, আমরা প্ল্যান করেছি জুলাই মাসে প্ল্যানটা জমা দেব। ৯ শতাংশ ইন্টারেস্টে আমরা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারব। আমরা মাইক্রোক্রেডিটে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি বিনিয়োগে। যে কারণে আপনি দেখবেন মাল্টিপারপাসের অধিকাংশ সম্পদ কেনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, আপনি বলছেন পরিচালকদের নামে, পরিচালকদের নামে নয়। মাল্টিপারপাসের পক্ষেই কেউ সই করে।
প্রশ্ন : আপনারা সরকারকে নানাভাবে ম্যানেজ করেন। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সরকারের অবসরপ্রাপ্ত ও আমলাদের সুবিধা দিয়ে প্রভাবশালী বর্ম তৈরি করেছেন, তাদের ঘুষ দেন, আপনারা যে বিভিন্ন সময় স্পন্সর করেন এগুলো কি এর অংশ নয়?
উত্তর : না, আমাদের একটি সিএসআর ফান্ড আছে ডেসটিনি ফাউন্ডেশন। এ ফান্ডে প্রতিটি ডিস্ট্রিবিউটর সেলসের আন্ডারে ১০ টাকা দান করি। আমরা এ ফাউন্ডেশনের আওতায় কলেজ চালাই। দুটি সাইক্লোন সেল্টার করেছি শরণখোলায়। তারপর ২৭ ছাত্রকে স্কলারশিপ দিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টসে স্পন্সর করি। এটা কিন্তু আমরা নই শুধু, অনেকেই করে। সবচেয়ে বেশি সিএসআর করে ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক, ১০০ কোটি টাকা বৃত্তির জন্য রেখেছে। আমরা তো এতদূর যেতে পারিনি। আমাদের এ বছর সিএসআর হতে পারে ২৫ কোটি টাকার মতো।
প্রশ্ন : বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।
উত্তর : এগুলো কিন্তু অসত্য, বানোয়াট কথা। এগুলো হচ্ছে আমাদের কিছু অসাধু কর্মচারীকে বহিষ্কার করেছি। এই কর্মচারীরা নিজেদের চাকরি হারিয়ে সানাই-বানিয়ে একটি স্টোরি বলতেছে। শুধু দেখান যে, আমরা বড় পর্যায়ের কাকে কিভাবে ম্যানেজ করেছি।
সেনাবাহিনীর (অব.) কর্মকর্তারা বেরিয়ে আসার আগে এইচআর এবং এমআইআরএ-এর ওপর লেখাপড়া করে। চাকরি শেষে তারা জব মার্কেটে কম বেতনে এন্ট্রি লেভেলে নেমে যায়। আপনি বলেন, একজন প্রফেশনাল লোককে ৬-৭ লাখ টাকা দিয়ে চাকরিতে আনা ভালো, না যে আমার সঙ্গে দুই আড়াই লাখ টাকায় একজন দক্ষ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে আনা ভালো। তাকে যখন চাকরি দেওয়া হচ্ছে তখন মনে করা হচ্ছে তার মাধ্যমে সরকারকে ম্যানেজ করা হচ্ছে; সরকার সেনাবাহিনীর কথা শুনতে বাধ্য নয়।
প্রশ্ন : সাবেক সচিব? সাবেক আমলা?
উত্তর : এগুলো একদম গুরুত্বহীন কথা, আমার খুব কষ্ট লেগেছে, আমরা এখন পর্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অভ্যস্ত হতে পারিনি, তবে এ ক্ষেত্রে আমার কথা হচ্ছে, আমাকে একটা উদাহরণ দিন যে আমরা অমুককে ম্যানেজ করেছি।
প্রশ্ন : ডেসটিনির লাইলেন্স বাতিল করা হয়েছে। দুদকে মামলার প্রস্তুতি হচ্ছে, সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যে কোনো সময় উধাও হয়ে যাবে বলে গুজব আছে? আপনার সদস্যদের জন্য বার্তা কী, মানুষের জন্য বার্তা কী? প্রস্তুতি কি?
উত্তর : ব্যাপারটা এমন না যে, কোনো দুর্বলতা রেখে কাজ করেছি। পত্রপত্রিকায় এত লেখালেখি হয়েছে, তারপরও আমাদের কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়নি। যেদিন পত্রিকায় লেখা হয়েছে, সেদিন মিরপুর ইনডোরে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম হয়েছে। আরো ১০০ দিন যদি পত্রিকায় লেখে আমরা কিছু বলব না। শুধু আমরা জানব আমাদেরকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশে উন্নয়ন করতে গেলে এমন বাধা নিয়েই আমাকে চলতে হবে। আপনি দেখেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪০ বছর হয়ে গেছে। উন্নয়নের জন্য ৪০ বছর অনেক। কথা হচ্ছে কেন পারছি না, তা হচ্ছে বাধা। বাধা বন্ধ করে দেন বাংলাদেশ ডেভেলপ হতে ১০ বছরও লাগবে না। বাধা চলতে থাকলে ১০০ বছরও লেগে যেতে পারে।
প্রশ্ন : আপনাকে প্রশ্ন করলে কি বাধা? আপনার কর্মকা- নিয়ে কথা বলা কি বাধা?
উত্তর : সেটা নয়। এটাকে বাধা বলব না। আপনি আমার সমালোচনা করেন, কোনো কথা নেই। আমাকে নিয়ে কথা বলেন সমস্যা নেই; কিন্তু আপনি জনগণের মাঝে প্যানিক সৃষ্টি করবেন না। আপনি কিন্তু বলছেন যে, ডেসটিনি উধাও হয়ে চলে যাচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে, যখনই আপনি বলবেন, ডেসটিনি উধাও হয়ে চলে যাচ্ছে তখন কোনো একজন হার্টের রোগী আছে, সে এই নিউজটা দেখার পরই হার্টফেল করতে পারে। আমি আমার অবস্থানে বসে আছি, আমি এত বড় স্টাবলিশমেন্ট দিলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ হাজার ৩ কোটি টাকার মালিক, তাহলে আমি কোথায় চলে যাচ্ছি। আমার তো ম্যাক্সিমাম সম্পদই স্থাবর, আমি কি বাগান নিয়ে দৌড় দিতে পারব। আমি বিল্ডিং নিয়ে চলে যেতে পারব, আমি কি জমি নিয়ে চলে যেতে পারব? কোনোটাই নিয়ে যেতে পারব না।
মানি লন্ডারিংয়ের কথা বলা হয়_ টাকা ওঠাতে গেলে তো সোর্স লাগে, আমি সিস্টেম করেছি আমাদের কোনো পরিচালক ৫ লাখ টাকার বেশি ওঠাতে পারবে না, আরো ঝামেলা আছে, ব্যাংক থেকে ফোন করে স্যার ৫ লাখ টাকার চেক আসছে। দিব কি-না। এতগুলো যেখানে চেকপোস্ট সেখানে আপনি কীভাবে ধারণা করেন কেউ ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে। এত সহজ না।
শেষ প্রশ্ন : যদি আপনি না থাকেন যেটা আগেও বলেছি তাহলে ডেসটিনি কীভাবে চলবে? আমরা চাই আপনি দীর্ঘজীবী হোন।
উত্তর : এটা যদি আজ থেকে ৫ বছর আগে বলতেন, রফিকুল আমীন আপনি না থাকলে কি হবে? তখন বলতাম হয়তো বা বন্ধ হয়ে যাবে; কিন্তু এখন ডেসটিনি কিন্তু ৫ বছরের শিশু নয়। সে কিন্তু ১২ বছরের কিশোর। আমি কথাটা চিন্তা করেছিলাম আজ থেকে কয়েক বছর আগে যে মানুষ মরণশীল। যে কোনো সময় মারা যেতে পারে। আমি যে যত্ন করে এত সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়ছি, আমি যদি এটা সবার সঙ্গে শেয়ার না করি তাহলে কি হবে? তখন আমি উদ্যোগ নিয়েছি যে, সিস্টেম। এখন ডেসটিনি সিস্টেমে চলে। রফিকুল আমীন না থাকলে যেটা হবে যে সেলসটা হয়তো কিছুটা কমে আসবে; কিন্তু আবার দাঁড়িয়ে যাবে। আমি যে সিস্টেম দিয়েছি এয়ার প্লেনের মতো। এয়ার প্লেন কখনো পাইলটের ওপর নির্ভরশীল নয়। একজন পাইলট বাদ দিলে আরেকজন পাইলট প্লেনটাকে নিয়ে যাবে; কিন্তু জানতে হবে কিভাবে প্লেনটা চালাতে হয়। এ জন্য আমি অনেক ডুপ্লিকেশন তৈরি করেছি। শুধু আমার ডিস্ট্রিবিউটর নয়। সারা বাংলাদেশের মানুষকে বলতে চাই, ডেসটিনিকে যদি সঠিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া হয়, ঞযরং পড়সঢ়ধহু পধহ ভঁষভরষষ ঃযব ফৎবধস ড়ভ ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযধসধহ. উনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রত্যেকটি মানুষের জন্য মোটা কাপড়, দু’বেলা ভাত হবে, একটা ছাদ হবে। আমরা অলরেডি উদ্যোগ নিয়েছি ২০২০ সালের মধ্যে ডেসটিনি এনসিউর করবে যে, ছাদবিহীন একটা লোকও থাকবে না। কেউ রাস্তায় ঘুমাবে না। এটা আমাদের নতুন কমিটমেন্ট। সোনার বাংলা আমরা যেটা স্বপ্ন দেখেছি সেটা সম্ভব।
কিন্তু আপনি যদি একটা প্রতিষ্ঠানকে কনটিনিউ করতে বাধা দেন এবং তাকে যদি হ্যামারিং করেন তাহলে সময় কিন্তু নষ্ট হবে। আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে। আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, একটা লোক আপনাকে বাধা দিচ্ছে। তাহলে আপনাকে আগে বাধা ঠেলতে হবে, তারপর যেতে হবে।
এখন বাধাটা কেন দিচ্ছেন? আমি কার সঙ্গে প্রতারণা করছি? আমি তো কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নেইনি। সবই তো লেনদেন। শুধু মাত্র মাল্টিপারপাসের মাধ্যমে কিছু শেয়ার নেওয়া আছে। আমিও কিনেছি। সবাই কিনেছে, আমরা বিনিয়োগ করেছি।
আমি আপনাকে বলি, আপনি রিপোর্টের দিকে খেয়াল করেন, রিপোর্টে বলা হয়েছে_ ২০০৯ সালে আমাদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি। ২০১০ সালে ৫০০ কোটির উপরে। ২০১১ সালে ৩ হাজার কোটি টাকার উপরে। এটা কেমন যেন স্ববিরোধী রিপোর্ট। তারাই বলছে, ৫০০ থেকে ৩ হাজার কোটি, আবার তারল্য সংকট হবে। অর্থাৎ তারল্য সংকট হলে যে ২০-২৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি সেখান থেকে দু’একটা কোম্পানি বেচে দিব, তারল্য সংকট আমার হবে না।
কারণ আমি চাইলে ১ মাসের মধ্যে লিকুইডিটি করে নিতে পারি; কিন্তু আমি কেন বিনিয়োগ করলাম। ধরেন আজকে আপনি যে জমিটা কিনছেন ১ লাখ টাকা শতক, দেখুন ২ বছর পর তা কোথায় যায়। আমরা তো ওয়াইজ ডিসিশন নিয়েছি, আমরা যদি এই টাকাগুলোকে এফডিআর করে সুদ খেতাম তাহলে দুইটা ভুল হতো_ একদিকে সুদ খাওয়া হতো এবং অন্যদিকে আমরা বিপদে পড়তাম। কারণ ১৫ শতাংশ ইন্টারেস্টে কোনো একটা কোম্পানি চলতে পারে না। সে জায়গায় আমরা কী করেছি? বিনিয়োগ করেছি- এগ্রিকালচার, ফরেস্ট্রি, রিয়্যাল এস্টেটে। আগামীতে আরো বড় বড় ইনভেস্টে যাচ্ছি। আমরা তো বলেছি, আমদের যদি সরকারের পিপিপি প্রোগ্রামগুলোতে সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে, ডেসটিনি সাকসেসফুলি ইউজ করে ডাবল ডিজিট জিডিপি বাস্তবায়ন সম্ভব। আমি স্বপ্ন দেখি ২০২০ সালের মধ্যে এটা সম্ভব এবং সিঙ্গেল ডিজিটে সুদের হার নামিয়ে আনাও সম্ভব।
এটা একমাত্র করতে পারবে ডেসটিনি। তার প্রমাণ বা কারণ ডেসটিনি ১১ বছরে যত লোকের কর্মসংস্থান করেছে, বাংলাদেশের কোনো একটা প্রতিষ্ঠান তা ৪০ বছরেও পারেনি।
আমার জনগণের কাছে ওয়াদা, ডেসটিনি কর্তৃক বাংলাদেশে শুধু নয়, পৃথিবীর কোনো একটা দেশের একটা লোকও ১ টাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এবং আপনারা নিশ্চিত থাকুন ডেসটিনি কোনোদিন বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s