ডেসটিনি প্রতারণা করে না

ডেসটিনি প্রতারণা করে না

ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ডেসটিনি-২০০০ লিঃ ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নিয়ে যেসব
বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বৈশাখী টেলিভিশনে ‘গ্রামীণ জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে (শনিবার মধ্যরাতে) সেসব বিষয়ে বিশদ বক্তব্য দিয়েছেন। ডেসটিনির ডিস্ট্রিবিউটর, পত্র-পত্রিকার অগণিত পাঠক এবং
এ ব্যাপারে জানতে উৎসুক সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর সে বক্তব্য তুলে ধরা হল।
প্রশ্ন : এমএলএম ব্যবসা কিভাবে পরিচালিত হয়? পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বিশেষ করে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে আইন দ্বারা এ ব্যবসা পরিচালিত হয় কি না?
উত্তর : আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আসলে ব্যবসার মূল নামটা হচ্ছে ডিরেক্ট সেলিং। ডিরেক্ট সেলিংয়ের একটি উপশাখা হচ্ছে এমএলএম। আরেকটি শাখা হচ্ছে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। এছাড়া ডোর-টু-ডোর মার্কেটিং, টেলিমার্কেটিং, ই-কমার্স_ এসব কিছু মিলিয়েই একটি ইন্ডাস্ট্রি। যাকে বলা হয় ডিরেক্ট সেলিং। ডিরেক্ট সেলিং অ্যাক্ট পৃথিবীর কমবেশি সবদেশেই রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমার জানা মতে ভারতে ডিরেক্ট সেলিং অ্যাক্ট সরাসরি না থাকলেও এসআরও একটি সার্কুলার আছে। কিভাবে এটা করতে হবে তার গাইডলাইন আছে। আমাদের কাছাকাছি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়াতে ডিরেক্ট সেলিং আইন রয়েছে। ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়াতে এ আইন পাস হয়। তবে ১৯৭১-৭২ সালের দিকে মালয়েশিয়াতে ডিরেক্ট সেলিং শুরু হয়। ডিরেক্ট সেলিং মার্কেটিং শুরুর ২৩ বছর পর সে দেশে এই আইন তৈরি হয়। কারণ ডিরেক্ট সেলিং আইনটা বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে করতে হয়। আমেরিকায় ডিরেক্ট সেলিং আইন এখানে করলে হবে না। এখানকার লোকের (বাংলাদেশের) যে ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে সেভাবে ডিরেক্ট সেলিং অ্যাক্ট করতে হবে। মূলত এটা এক ধরনের ই-কমার্স ট্রেডিং, ই-টেলিং_ আমি বলব এটা সরাসরি বিপণন ব্যবসা। এটা নতুন কিছু না। পুরনো জিনিসকে নতুন মোড়কে তুলে ধরা। আমরা এক সময় সুপারমার্কেট দেখেনি; কিন্তু এখন মেগা মল, সুপার মল দেখা যায়। আমরা দেখেছি দোকান_ চার রাস্তার মোড়ে কয়েকটি দোকান মিলে একটা হাট বসত। তারপর বাজার হল। বাজার থেকে বিল্ডিংয়ের ভেতর ঢুকে মল হল। সেখানে এখন কতরকমের ব্যবসা। এখন যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আগে দোকানদারি হতো রাস্তার পাশে, এখন সুপার মল হচ্ছে_ সরকার এর জন্য কোনো নীতিমালা করবে কি না? এটা কিন্তু একটা হাস্যকর প্রশ্ন হবে। কারণ ওটার নীতিমালার কিছু নেই। একই ব্যবসা করছে_ বাইরে যে লোক করছে_ ভেতরেও সেই লোক একই ব্যবসা করছে। পার্থক্য হচ্ছে অবকাঠামোর। আগে ওটা ছিল টাইপরাইটারের মতো, এখন হয়ে গেছে ল্যাপটপের মতো। তখন যেমন আপনি ব্যবসা করতে গেলে আগে টাইপরাইটার দিয়ে টাইপ করতেন, এখন ল্যাপটপ দিয়ে টাইপ করেন। এখন এটার জন্য আলাদা করে সরকারের কাছ থেকে যেমন অনুমতির প্রয়োজন নেই, অং ষড়হম ধং ুড়ঁৎ ঃুরহম ঃবীঃ নঁঃ ঃযবংব যধং ঃড় নব ংধসব রেগুলেশন। যেমন টাইপরাইটার এক ধরনের ডিউটি দিয়ে আসছে; কিন্তু কম্পিউটার ওভাবে দেবে না। হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে একটা পার্থক্য থাকতে পারে। আসলে মূল ফাংশন কিন্তু একই।
প্রশ্ন : এমএলএম বা নেটওয়ার্কিং ব্যবসার আইনগত ভিত্তি কি বাংলাদেশে আছে?
উত্তর : সরাসরি এমএলএম নীতিমালা বলতে কিছু নেই। যেটা আছে তাহল বেশ কয়েকটি কোম্পানি জয়েন্ট স্টক থেকে আমি ডিরেক্ট সেলিং করব, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং করব_ এ ধরনের কিছু অনুমতি নিতে পেরেছে। আবার অধিকাংশ কোম্পানি পারেনি। জয়েন্ট স্টক ওভাবে দেখে দেয়নি। তারা বলছে আপনারা নরমাল ট্রেডিং লিখে দিয়ে যান। কিন্তু এতে করে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এতে করে ঢ ণ ত/ যে কেউ মুদি দোকানদারও কালকে কিন্তু ডিরেক্ট সেলিং করতে নেমে যাবে। এতে করে এই ইন্ডাস্ট্রির যে ভালো দিকটা আছে এটা না দেখে মানুষ খারাপ দিকটা দেখা শুরু করবে। কারণ ওই জিনিসটা যেমন আপনাকে একটা ধারণা দেয়_ যেমন ক্ষুর। আমরা দেখি ক্ষুর দিয়ে নাপিত শেভ করে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, নাপিত ক্ষুর চালাতে জানে বলে ওটা শেভ হয়; কিন্তু আনাড়ি লোক যদি চালাতে যায় তাহলে গলা কেটে যাবে। সেক্ষেত্রে কিন্তু ক্ষুরের দোষ নয়। তাহলে ক্ষুরটা যেহেতু সার্প জিনিস, এটা ব্যবহার করার জন্য কাকে এটার ক্ষমতা দেয়া যাবে সেটা দেখতে হবে। নাপিত যদি ক্ষুর চালায় আপনি চালাতে দেবেন; কিন্তু কোনো একজন লোক এসে যদি বলে আমি আপনার শেভ করে দিই আপনি রাজি হবেন না। কারণ সে আপনার গলা কেটে ফেলবে। ঠিক আমি বলব মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বলুন এটা এক ধরনের ক্ষুরধার বিপণন ব্যবস্থা। এটা যদি ঢ ণ ত_ সবাইকে করতে দেওয়া হয় তাহলে এখানে কিন্তু সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অনেক বেশি লোক। রাতারাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রশ্ন : তাহলে কি ডেসটিনি একেবারে পারমিশন ছাড়া বা সরকারের অনুমতি ছাড়া কাজ করছে?
উত্তর : না, আমাদের কিছু অনুমতি আছে। আমরা যখন ২০০০ সালে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক থেকে করে নেই ক্লজ নাম্বার-৯; পরিষ্কার আমরা পারমিশন নিয়েছি। এভাবে লেখা আছে_ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা ডিরেক্ট মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা যিধঃংড়বাবৎ, আমরা এভাবে দেশি অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য বিপণন করতে পারব কমিশন বেইজড। আমরা নিতে পেরেছি। কিন্তু পরবর্তীকালে অনেক কোম্পানি এ ধরনের সুযোগ পায়নি। কথা হচ্ছে এটা, যখন আমাদেরকে এই অনুমতিটা দেয় জয়েন্ট অব স্টক, আমার ধারণা তখন তারাও জানে না আমরা কিসের অনুমতি নিচ্ছি, এটা সত্য কথা। এখানে আমরা যেহেতু বিদেশ থেকে দেখে এসে আমি এবং মোহাম্মদ হোসাইন এটা শুরু করি, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কোনোরকম চালাকি করব না, প্রতারণা তো দূরের কথা। গতানুগতিক ব্যবসা, সেটা পারমিট করে, সেটার আদলে আমরা করব। অর্থাৎ আমাদের এখানে কেউ যদি কোনো পণ্য কিনতে আসে সে যেন এটা ফিল করে যে আমি বাইরেও যা সার্ভিস পেয়েছি, এখানেও সেই সার্ভিস পাচ্ছি। পার্থক্য হচ্ছে আমাকে একটা কমিশন দেওয়া হচ্ছে। আমি কমিশনটা কিভাবে দিতে পারি, যেহেতু আমার গতানুগতিক শোরুম, মিডলম্যান নেই, বাড়তি খরচ নেই, আমি এক জায়গা থেকে ওয়ান পয়েন্ট সেলস সেন্টার থেকে বিক্রি করছি। আপনি যদি একটু পেছনে তাকিয়ে দেখেন এক সময় কিন্তু এমএলএমের আদলে বেচাকেনা হতো। আপনার কসকো বা কাসকো ব্যাটারি বা সাবান ঘরে রেখে বিক্রি করত। আমার বড় ভাই করত আমি দেখেছি। কিন্তু এটাকে তখন কেউ বুঝেনি_ ওঃ রং ধ শরহফ ড়ভ উরৎবপঃ সেলিং। মনে করা হতো এটা জবঃধরষরহম, নঁঃ রঃ রং ধ উরৎবপঃ ঝবষষরহম. উরৎবপঃ ঝবষষরহম-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোক্তা ও সরবরাহকারী এ দুইয়ের মাঝখানে কোনো দালাল থাকতে পারবে না এবং ভোক্তা কি এনজয় করবে? সে পণ্যটা এনজয় করবে। এবং তার একটা রাইটস্ তৈরি হবে পণ্যটার গুড সার্ভিস পাওয়ার। এরপর এমএলএমে যেটা বাড়তি যোগ করা হয়েছে সেটা গতানুগতিক ব্যবসায় নেই। সেটা হচ্ছে তাকে ওই যে পণ্যটা তার কাছে বিপণন করা হয়েছে সেটার ওপরে যেটা লাভ হয়, ওই লাভের একটা অংশ যেমন ১০% তাকে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন : ডেসটিনি আসলে কতবড় প্রতিষ্ঠান? এর সঙ্গে কতজন ব্যবসা করছেন, কতগুলো প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে ডেসটিনির বিনিয়োগে পরিচালিত হয় এবং এর মধ্যে কতগুলো লাভজনক?
উত্তর : ডেসটিনি শুরু হয়েছে ২০০০ সালে, যদিও রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ২০০১ সালে। ডেসটিনি-২০০০ লিঃ নামে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে, যেটাকে আমরা এখন এমএলএম কোম্পানি বলছি। আসলে এমএলএম কেন হয়েছে এ জিনিসটা আপনাকে বলি। এটা একটা কমপ্লিকেটেড টার্ম। এটা হচ্ছে এই_ আমরা যেমন কথার কথা বলি পানি খান। পানি কিন্তু খাওয়া যায় না। পান করতে হয়। এটাকে আমরা ইংরেজিতে বলি জেনারেলি এক্সসেপটেড মিসটেক। মানে যদিও এটা মিসটেক তবে জেনারেলি এক্সসেপটেড। পানি যেমন খাওয়া হচ্ছে, যে কোনো ব্যবসাকেও এমএলএম বলা হচ্ছে। আমাদের কোম্পানি কিন্তু এমএলএম কোম্পানি নয়। এটা হচ্ছে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানি। আপনি এখন প্রশ্ন করবেন, তাহলে এমএলএম কোম্পানি ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানির পার্থক্য কি? বিশাল পার্থক্য আছে। এমএলএম কোম্পানি হল সাধারণত তারা করে মাল্টিলেভেলে। তাদের মাঝখানে কিন্তু ব্রোকার ঠিকই আছে। তারা কেবলমাত্র তাদের উৎপাদিত পণ্য ও তাদের ব্র্যান্ডের পণ্য ছাড়া ঢ ণ ত কারো পণ্য বিপণন করতে বাধ্য নয় এবং করেও না। কিন্তু এমএলএমে আমি যেটা দেখেছি কাস্টমারের জন্য সমস্যা যেটা হয়- যেহেতু পণ্যটা ওই কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি উৎপাদন করে না, সে জন্য কাস্টমার গেইজ করতে পারে না এই পণ্যের বাজার দর কত হতে পারে। তাই যা-ই দাম হাঁকানো হয় সেই দামেই কাস্টমার নিতে বাধ্য হয়। তাতে করে দেখা গেছে, আমি একটু পিওর সমালোচনা করব। অনেক এমএলএম কোম্পানি দেখা গেছে_ খুব বেশি উৎসাহী হয়ে পণ্যটার দাম যদি হয় ১০ টাকা বিক্রি করা শুরু করে ১০০ টাকায়। কারণ ৫০ টাকার একটা কমিশন দেবে এই লাভে। তাই এমএলএম কোম্পানিগুলো যখন পণ্যগুলো বাজারজাত করে বোঝার উপায় নেই এটার প্রকৃত উৎপাদন মূল্য কত। ইঁঃ যিধঃ রং হবঃড়িৎশ মার্কেটিং? নেটওয়ার্ক মার্কেটিং হচ্ছে সে তার নিজের ব্র্যান্ডও বিক্রি করতে পারবে, চাইলে সে অন্যের ব্র্যান্ডও বিক্রি করবে। তাহলে হবে কি কম্পিটিশন তৈরি হবে। মনে করুন, আমি ল্যাপটপ বিক্রি করি। এখন আমি যদি ডেসটিনির ল্যাপটপের পাশাপাশি সনির ল্যাপটপ রাখি এটলিস্ট কাস্টমারের জাজ করার ক্ষমতা তৈরি হবে যে ল্যাপটপের দামটা আসলে কত? তো মনে করেন আমি বিক্রি করছি ২০ হাজার টাকায়, তাহলে সে বুঝবে ল্যাপটপের দাম এর কমই হবে। তার মানে আমি বেটার প্রাইসে পাচ্ছি। কারণ আমি সনি কিনতে গেলে ১ লাখ টাকা খরচ পড়ে। ইঁঃ ধঃষবংঃ তার একটা কমনসেন্স তৈরি হবে ল্যাপটপের দাম কত। মনে করেন ল্যাপটপ পৃথিবীর কেউ তৈরি করে না। আমি একাই তৈরি করি। আমি যদি ১০ লাখ টাকায়ও একটা ল্যাপটপ বিক্রি করি ভোক্তার কিছু বোঝার উপায় নেই আমি কত লাভ করলাম।
যে কারণে এমএলএমের ধারাবাহিকতায় ব্যবসা করাতে আমার আপত্তি ছিল। তাই আমি এমএলএম থেকে বেরিয়ে গেলাম নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি? আমি এমন এমন পণ্য বিপণন করব যেটা বাজারে প্রচলিত অন্য পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকবে। তাই আমি এমএলএমের খুব সমালোচনা করছি না, আমি বলছি এমএলএমের পণ্যগুলোকে কাস্টমারের পক্ষে অনুধাবন করা মারাত্মক রকমের জটিল, বরং নেটওয়ার্কে এটা সুবিধা।
প্রশ্ন : ডেসটিনির আসলে কতগুলো সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে এবং কতগুলো লাভজনক?
উত্তর : ডেসটিনি শুরু করেছিল ২০০১ সালে একটি কোম্পানি দিয়ে। তারপর পরবর্তীকালে ২০০৩, ২০০৪ সালে আরো দুটি কোম্পানি করি। এরপর ২০০৬ সালে গিয়ে সাকসেসফুলি ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন এবং পরবর্তীকালে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস করতে পারি এবং আমাদের এ কোম্পানিগুলো করার পেছনে একটি সৎ উদ্দেশ্য ছিল। সেটা হচ্ছে আমরা জানি শুধু একটা কোম্পানির আয়ের ওপর একটি প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ঘবাবৎ ঢ়ঁঃ ুড়ঁৎ ধষষ ধৎব রহ ড়হব নধংশবঃ. ইবপধঁংব রভ ুড়ঁ ষড়ংং ঃযব ধমব, নধংশবঃ, ণড়ঁ ষড়ংং ঃযব ধমব. অপঃঁধষষু ংঢ়রৎরঃ ুড়ঁৎ ধমব. অমব মানে বুঝাতে চাইছি সময়টাকে বা পরিশ্রমটাকে। চিন্তা করলাম আমরা যদি সমস্ত পরিশ্রমটাকে একটা কোম্পানির পেছনে দিই আর আল্লাহ না করুন যদি কোনো কারণে ফেল করে এই বিশাল জনগোষ্ঠী কোথায় যাবে। তাই তাদের স্বার্থকে রক্ষা করার জন্য আমরা ধীরে ধীরে ডাইভারসিফিকেশন করা শুরু করলাম। এই ডাইভারসিফিকেশনগুলোর কিন্তু আমাদের একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা ছিল। সামাজিক দায়বদ্ধতা কি আমরা শুধু এমএলএম করব না। আমরা ঈঝজ করব। আমরা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান করব। আমরা বনায়ন করব, পরিবেশ রক্ষা করব। আমরা রাস্তাঘাট করব, আমরা কলেজ করব, আমরা ইউনিভার্সিটি করব। আমরা হাসপাতাল করব। আমরা শপিংমল করব। এই জিনিসগুলো কোনোটাই কিন্তু এমএলএমকে সফল করার জন্য নয়।
আমরা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে করেছি যে, শুধু একটি কোম্পানি করে আমরা সেপারেট হতে চাই না। এ জন্য আমরা অন্য ব্যবসা করছি। এতে হচ্ছে কি, এতগুলো কোম্পানির মধ্যে মনে করেন আমরা এখন পর্যন্ত ৩৭টি কোম্পানি করেছি; কাগজে-কলমে। কেন বললাম কাগজে-কলমে, ১৬ থেকে ১৭টি কোম্পানির জন্ম হয়েছে লেস দেন ওয়ান ইয়ার। গত এক বছরে ১৬ থেকে ১৭টি কোম্পানি কেন করলাম। এই ১৬ থেকে ১৭টি কোম্পানির কাগজপত্র ঠিক করে রেখেছি। যদি ঙঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু আসে তাহলে সেখানে আমরা বিনিয়োগ বাড়িয়ে সেটাতেও ড্রাইভ দেব। উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা যদি ৩০ থেকে ৩৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করি। আর ২০টি কোম্পানি যদি প্রফিট করে ডব ধৎব ফড়হব. আপনি বুঝবেন কৃষক যখন সে জমিতে চাষ করে একই ধরনের ফসল সে করে না। বিভিন্ন রকমের করে। তার চিন্তা একটা না একটা আসবেই।
প্রশ্ন : কিছু অভিযোগ আছে যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে কিছু ব্যক্তিকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিছু কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে?
উত্তর : না, এটা আসলে ভুল তথ্য। আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে। আমরা কিন্তু একটা জিনিস বলি আগে তারা কিন্তু পরিবেশক, আমাদের কোনো গ্রাহক নেই। এখানে একটা রং টার্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রাহক যার বিক্রেতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের এখানে কোনো গ্রাহক নেই, আমাদের এখানে সবাই হচ্ছে রিসপেকটেবল ডিিিস্ট্রবিউটর। এরা প্রত্যেকে পরিবেশক এবং প্রত্যেকের স্বার্থ আমার স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। ডব ধৎব ড়িৎশরহম রহ ধ পড়সসড়হ রহঃবৎবংঃ পড়সসড়হ ৎরমযঃ. এখন কি হচ্ছে, আমরা পরিবেশকদের তাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার জন্য। আমরা যখন কোম্পানি করি তখন কোনো পরিবেশকের কাছ থেকে টাকা নেইনি। আমরা কাকে অফার করেছি, যারা এক্সজিসটিং ডিরেক্টর আছে তাদেরকে বলেছি যেহেতু আপনারা যারা আয় করেছেন, আরেকবার এখানে বিনিয়োগ করেন। তার মানে আপনি বুঝতেছেন যে, যে কোনো বিনিয়োগ এসেছে উদ্যোক্তাদের পকেট থেকে। ব্যবসা থেকে কিন্তু কোনো টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ব্যবসা তো আপনার রোলিং করছে। আমরা যে কোম্পানিগুলো করেছি, আজকে ধরেন আমি যদি মোহাম্মদ হোসাইনের কথা বলি, মোহাম্মদ হোসাইন এখান থেকে বছরে ৩/৪ কোটি টাকা আয় করছেন। এখন আমি চিন্তা করলাম ৩/৪ কোটি টাকা উনি যদি অন্য জায়গায় খরচ করেন তাহলে আমি উনার জন্য অ্যাফোর্ড দিলাম কেন? আমি উনাকে আরেকটি কোম্পানির ডিরেক্টর বানাই। তাহলে ওহফরৎবপঃষু আমি উনার টাকাগুলোকে জব-রহাবংঃ করিয়ে দিলাম। আমার এই কৌশলটা হচ্ছে এ জন্য যে, আমরা এখন লাভ খাব না, দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করছি। যদি ওই প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক অবস্থায় যায় তাহলে কিন্তু পরিবেশকরাও লাভবান হবেন। এখানে একটা রং কথাবার্তা চলছে। পরিবেশকের টাকা দিয়ে কোম্পানি করছি। এটা কোনোদিনই সম্ভব না। কারণ পরিবেশক তো পণ্য কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছে। তারপর তো সে আমাকে বাড়তি টাকা দিচ্ছে না। সুতরাং কোম্পানি সব উদ্যোক্তার নিজস্ব পয়সায় করা।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে যে, জিজিএন, ইউনিপে টু ইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আছে সেইগুলোর সঙ্গে ডেসটিনির পার্থক্য কোথায় এবং ডেসটিনি যে ব্যবসা করছে সেটাও কি প্রতারণা করছে?
উত্তর : আপনাকে একটা কথা বলি। প্রতারণা কিন্তু একটা বোনাফাইড প্ল্যান। কেউ যদি প্ল্যান করে আমি মানুষকে প্রতারণা করব, সেটা হচ্ছে প্রতারণা। মনে করেন যে, কেউ পরীক্ষা দিতে গিয়ে নকল করছে এটা কিন্তু প্রতারণা। কিন্তু পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে যদি ফেল করে এবং সে যদি লেখাপড়া না করায় রেজাল্ট খারাপ হয় আপনি বলতে পারবেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বেতন নিয়েছে কিন্তু কিছুই শেখায়নি। এটা কিন্তু ফেল। ফেল অ্যান্ড ফল্ট সম্পূর্ণ আলাদা টার্ম কিন্তু। যেমন মনে করেন আমি আপনাকে এই প্রসঙ্গে একটা ঊীধসঢ়ষব দিই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো রেজাল্ট করছে ১০০ ভাগ। আবার বহু প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ছাত্র ফেল করে বেশিরভাগ। আপনি শব্দটা ফেল বলবেন না ফল্ট বলবেন? এখন পর্যন্ত যতগুলো এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে, ইনটেনশনালি কোনো প্রতারণা করা হয়নি। ইনটেনশন কথাটা বললাম এ জন্য যে, তাদের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য যখন প্রতিষ্ঠানটি এক জায়গায় এসে বন্ধ হয়ে গেছে তখন ভোক্তা-পরিবেশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধরুন, আজকে যদি জিজিএন টিকে থাকত তাহলে আজকে ইতিহাসটা কিন্তু ভিন্নভাবে লেখা হতো। তাহলে জিজিএনকে কিন্তু প্রতারণাকারী কোম্পানি বলা যেত না। আমি কিন্তু জিজিএনের একজন ভোক্তা-পরিবেশক ছিলাম। আমি নিজে বলতে পারি তারা আসলে ইনটেনশনালি প্রতারণা করেনি। তারা ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে কাজটি করতে পারেনি। তারা অদক্ষ লোক দিয়ে ব্যবস্থাপনা করেছে। যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ও ডিরেক্ট সেলিং বোঝে না তাদেরকে এনে প্রশাসনিক বিভাগে বসিয়েছে। তারা মানির মিস ম্যানেজমেন্ট করেছে। এতে করে মানি শর্টেজ হয়েছে। সেল পড়ে গেছে। পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে। তাতে করে তাদের ওভারহেড যেটা আছে বেতন দেওয়া, সেটা কিন্তু চালু ছিল। তাতে করে একসময় গিয়ে অর্থ সংকট হয়েছে। একপর্যায়ে গিয়ে জিজিএন আর পয়সা দিতে পারেনি। আপনি কি জানেন, জিজিএন কত টাকার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন যদি তাদের কাছে ২ কোটি টাকা থাকত তারা বন্ধ হতো না।
প্রশ্ন : ডেসটিনির সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা কো-অপরারেটিভ কিছু কাজ করছে ব্যাংকের মতো। তারা টাকা-পয়সা নিচ্ছে, জমাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বিক্রি করছে, এর সঙ্গে ব্যাংক, স্টক মার্কেটে তারল্য সংকট হচ্ছে। এটাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
উত্তর : প্রথম কথা হল তারল্য তো বলছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি জন্ম থেকে এ পর্যন্ত তারা ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকার লেনদেন করলই না। বাজারে যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার দরকার হয় তারল্যের জন্য। সেখানে মাত্র ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা লেনদেনের জন্য মার্কেটে তারল্য কমে গেল। গত বছর জুন মাসে আমার কাছে ৭/৮টি ব্যাংক এসেছিল ইনক্লুডিং গভর্নমেন্ট ব্যাংক। বলেছিল কিছু ফিক্সড ডিপোজিট রাখেন। আমি জানতে চেয়েছিলাম ব্যাপারটা কি? বলে যে শেয়ার মার্কেটের ওপর অর্থ তারল্যে ঘাটতি হয়েছে। আমার কথা হল, তারল্য সংকট কেন হয়েছে সবাই জানে। পুঁজিবাজারে মন্দা অবস্থা। শেয়ার বিজনেসে ধস নেমেছে। আরো অনেক কিছুই আছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, আপনি বলতে চাচ্ছেন ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের কারণে তারল্য সংকট হয়েছে, তাহলে প্রতিবেশি দেশগুলোতে কেন হল? তাদেরও তো তারল্য সংকট। তাহলে এর জন্য ডেসটিনি দায়ী নাকি? এটা জাস্ট হচ্ছে কি আমাদের ওপর সেটা- উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এটা তেমন- ওই যেমন বাঘ ও মেষ শাবকের গল্পের মতো। বাঘ বলছে মেষ শাবককে, কেন তুমি পানি ঘোলা করছ? মেষ শাবক বলছে, পানি তো আপনার দিক থেকে আসছে, আমি ঘোলা করলাম কিভাবে? তাহলে তুমি গত বছর আমাকে গালি দিয়েছ। মেষ শাবক বলছে গত বছর আমার জন্ম হয়নি। তাহলে তোমার বাবা গালি দিয়েছে। ঠিক এ ধরনের বাহানা করে আমাদের ঘাড়ে কিন্তু দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেই দোষের ভাগিদার আমরা নই। আমরা ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকার যে শেয়ার লেনদেন করেছি, এর বড় অংশ কিন্তু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ ব্যাংক তো বলেছে আপনারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই ব্যাংকিং করছেন?
উত্তর : আমরা কোনো ব্যাংকিং করছি না, এটা হল সবচেয়ে বড় কথা। কারণ আমাদের ব্যাংকিং করার কোনো রাইট নেই। আমরা শেয়ার নয়, সমবায় আইন আমাদের সভ্যদের কাছে শেয়ার বিক্রি করার অধিকার দিয়েছে। যেমন আমি, গোফরান আরো যারা সভ্য তারা শেয়ার কিনেছি। এটা করার অধিকার সরকারই দিয়েছে। কিন্তু যেটা বলা হচ্ছে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যাংকিং করা হচ্ছে, এটা অসম্ভব।
প্রশ্ন : দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন ৫ বছর ৭ বছরে ডাবল করে দেওয়া হবে বলে?
উত্তর : মানুষের কাছ থেকে নয়। সেটা হল আমাদের এখানে কিছু লাইসেন্স দেওয়া আছে এইভাবে যে, এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার বা অর্থ লেনদেন করার। যারা ডেসটিনির সঙ্গে জড়িত ভোক্তা-পরিবেশক, যাকে মানুষ বলছেন তার ব্যাক ফ্ল্যাশটা কিছু আপনি জানেন না। তারা-কিন্তু আমাদের ডিস্ট্রিবিউটর। আমাদের টোটাল ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা কত, দেখেন প্রায় ৪৫ লাখ। আর কো-অপারেটিভের সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ। তাহলে ৪৫ লাখ লোকের মধ্যে থেকে মাত্র সাড়ে ৬ লাখ লোক এসে কো-অপারেটিভের শেয়ার কিনেছে। বাইরের মানুষ কোথায় থেকে এল? আরেকটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। সেটা হল ৩৮ লাখ লোকের থেকে আমানত নিয়েছি। আমাদের মেম্বারই হল সাড়ে ৬ লাখ। আমার কথা হচ্ছে, আমাদের ওপর যে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এটা তো ভুল। এটা তো ঠিক না।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট ঠিক নয়?
উত্তর : অসম্ভব।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s