‘বাংলাদেশ হবে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার’

‘বাংলাদেশ হবে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও মসৃণ করতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ চেয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ইছানগরে কোস্টগার্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরামর্শ চান। এ সময় উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবিস্নউ মজিনা বলেন, পরে বাংলাদেশ হবে এশিয়ান টাইগার। কোস্টগার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনটি মেটাল শার্ক অ্যাম্বুলেন্স বোট হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে বসা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও মসৃণ করতে আপনি সবসময় পরামর্শ দেবেন।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কোস্টগার্ডের দস্যুদমন অভিযানের মাধ্যমে নিরলস প্রচেষ্টার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো বাংলাদেশকে পাইরেসি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে কোস্টগার্ড প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অবৈধ দ্রব্য আটক করেছে। আগের বছরের চেয়েছে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি অবৈধ মালামাল তারা আটক করতে সক্ষম হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার উপকূলীয় জলসীমা আছে। এ বিশাল জলসীমা রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ এ সীমানাপথ জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, অস্ত্র, মাদক চোরাচালান এবং মানব পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘জলসীমা নিরাপদ রাখতে কোস্টগার্ডকে একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর কোস্টগার্ডকে প্রতিটি ৩৮ ফুট দীর্ঘ আরো ৬টি মেটাল শার্ক অ্যাম্বুলেন্স বোট দেওয়া হবে বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ আগামী দুদশকে এশিয়ান টাইগারে পরিণত হবে। বাংলাদেশ হবে আগামীর অর্থনৈতিক পরাশক্তি। এছাড়া বিশ্বের বৃহৎ তৈরি পোশাক রফতারিকারক দেশও হবে বাংলাদেশ।’
মজিনা আরো বলেন, ‘এই প্রয়োজনীয় সামর্থ্য গড়ে তুলতে আমেরিকা বাংলাদেশের সহযোগী হওয়ায় আমি গর্বিত। আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র) আজ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে অ্যাম্বুলেন্সের ভূমিকা পালনের জন্য তিনটি নৌ-যান হস্তান্তর করায় আমি আনন্দিত।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল কাজী সরওয়ার হোসেন এবং ইউএস ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক লজিস্টিকস কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল থমাস এস কার্নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নৌ-যানগুলো দুই ধরনের কাজ করতে সক্ষম। এগুলো অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ও নিয়মিত টহল দায়িত্ব পালনেও ব্যবহৃত হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে, এই নৌ-যানগুলো ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাসহ দুর্যোগের সময় প্রাথমিক সাড়া প্রদানকারী হিসেবে কোস্ট গার্ডের সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি সেগুলো রোগীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ডের সামর্থ্য আরো বৃদ্ধি করবে, সমুদ্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বিপদের সময় দীর্ঘ সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পাদনে সক্ষম করে তুলবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s