হলমার্ক টাকা ফেরত দেয়নি

হলমার্ক টাকা ফেরত দেয়নি
অর্ধেক অর্থ ফেরত দিতে সোনালী ব্যাংকের চিঠি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

সোনালী ব্যাংক থেকে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের ৫০ শতাংশ নগদ অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাংক পরিচালনা পষর্দের দেওয়া চিঠির জবাব দেয়নি হলমার্ক গ্রুপ। গতকাল ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, ওই গ্রুপকে দেওয়া সোনালী ব্যাংকের চিঠির মেয়াদ গতকাল শেষ হয়েছে। এর মধ্যে এ চিঠির বিষয়ে গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। এর আগে হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে ৩০ বছর সময় চেয়েছে। সূত্র মতে, এর আগে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে এমডি তানভির মাহমুদ বলেছিলেন, গ্রুপের বন্ধ করে দেওয়া সব ব্যাংক হিসাব খুলে দিলে তিনি ব্যবসা করে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে সব অর্থ ফেরত দেবেন।
সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম ড. মো. হাফিজুর রহমান জানান, হলমার্ক গ্রুপ আমাদের চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। এ বিষয়ে পরে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে দুপুরে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও প্রদীপ কুমার দত্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে। তবে ফিরে এসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য পরিচালক কাসেম হুমায়ুন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, অভিযুক্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেছেন, তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে যে অর্থ নিয়েছেন তার ২০ গুণ সম্পদ তার কাছে রয়েছে। তাই আমরা সোনালী ব্যাংক পর্ষদ অবৈধভাবে নেওয়া ২ হাজার ৬৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার পঞ্চাশ শতাংশ নগদ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ বা অনুরোধ করেছি। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হলমার্ক গ্রুপকে দেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের বিধিবিধান মেনে এবং ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে ওই গ্রুপকে ২৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাও মানেননি।
হলমার্ক গ্রুপ জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক থেকে যে অর্থ নিয়েছে তা কোনোভাবেই ঋণ নয়। আমরা এটাকে ঋণ বলি না। এটাকে আমরা অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা বলছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই গ্রুপের এমডি তো দুদিন পরই বলছেন, তার ঋণের বাকি অর্থ ফেরত দেবেন। কিন্তু এখন আর তার কথা আমরা শুনতে চাই না। আমরা সোনালী ব্যাংকের ইমেজ আর হাতিয়ে নেওয়া অর্থ কিভাবে ফেরত আনা যায় তা নিয়ে ভাবছি। সূত্র মতে, হলমার্ক গ্রুপ এখন পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৫ একর জমি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী এ সম্পত্তির দাম ২ হাজার কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের একটি টিম জমির মালিকানা স্বত্ব ও বাজারমূল্য যাচাই বাছাই করছে। হেমায়েতপুরে এ জমি রয়েছে। আরো ১৩ একর জমি তারা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এমডি তানভীর বলেছিলেন, সোনালী ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা ঋণ নিলেও এর বিশ গুণ সম্পদ বর্তমানে আমার আছে। এ টাকা আমি সময়মতো দিয়ে দেব। সরকার আমার ৭০-৮০টি প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেই আমার ব্যবসায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। তার এ বক্তব্যের পরই সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পষর্দ এ চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s