ডেসটিনিতে আমরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হইনি : তবে কার স্বার্থে অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলন

মানববন্ধনকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি অ্যাকশন, ডিআরইউতে ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলি, মানববন্ধন করতে গেলে পুলিশ ডেসটিনি কর্মীদের গ্রেফতার করে _ডেসটিনি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

* ৪৫ লাখ মানুষের স্বার্থরক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা
* আমরা কাজ করতে চাই, কাজ করার সুযোগ দিন
৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ডেসটিনিতে এসে লাখ লাখ মানুষ তাদের বেকারত্ব ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে। ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর ডেসটিনিতে এসে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে কিসের স্বার্থে এই কৃত্রিম অভিযোগ। বিরাজমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। এ সময় নেতৃবৃন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিডিএফের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের আহ্বায়ক এ কে এম সফিউল্লাহ, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, ক্রাউন এক্সিকিউটিভ মোসাদ্দেক আলী খান, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ রাজিব মিত্র ও শাহ আলম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রাউন এক্সিকিউটিভ আতাউর রহমান রেজা, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ সিরাজাম মুনির, সৈয়দ আমিরুল ইসলাম সজল, রাকিব হোসেন, তাজুল ইসলাম, আতিক নজরুল, মহিউদ্দিন রিপন, মোস্তাফিজুর রহমান রশিদ, জুলফিকার হাসনাত, ইউনুস আলী, বিপ্লব বিকাশ শীল, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, ফিরোজ আলম টিপু প্রমুখ। এছাড়া সব ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ উপস্থিত ছিলেন।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ডিডিএফ নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত নই, তবে কেন বলা হচ্ছে জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ। আমরা তো এখানে বিনিয়োগ করেছি লাভের আশায়, লাভবানও হয়েছি; তবে কেন ও কিসের স্বার্থে কৃত্রিম অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা তো কোনো অভিযোগ করিনি। বক্তারা বলেন, আমাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে ও লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বস্বান্ত করতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করা হয়েছে। কুচক্রীমহলের ওই যড়যন্ত্র থেকে ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ক্রেতা-পরিবেশকদের রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) নীতিমালা প্রণয়ন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডেসটিনির ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। দ্রুত এ আইন বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে এমএলএম ব্যবসাকে অযথা নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভুল বুঝে ডেসটিনির পরিচালনা পর্ষদসহ জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু আমরা যারা ডেসটিনির সঙ্গে গত এক যুগ ধরে কাজ করছি, সেই ৪৫ লাখ মানুষের মধ্যে একজন ব্যক্তিও ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অপপ্রচার করে ডেসটিনির মতো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টানা ৭ মাস ধরে যে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তাতে প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে এর সঙ্গে জড়িত ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এদের ওপর নির্ভরশীল কোটি মানুষ বিপদের সম্মুখীন। বর্তমান এ পরিস্থিতিতে এদের দায়িত্ব নেবে কে_ প্রশ্ন করেন তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অর্ধাহারে-অনাহারে রয়েছি। আমরা কাজ করে খেতে চাই, দয়া করে কাজ করার সুযোগ দিন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার অবস্থায় উপনীত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা অথবা মা গত পাঁচ মাস ধরে ব্যবসা করতে পারছে না, বেতন পাচ্ছে না। শূন্যহাতে যখন ঘরে ফেরে তখন সেই বাবা-মার বুকে সন্তানের জন্য যে রক্তক্ষরণ হয় তার বেদনার ভয়াবহতা নির্মম ও নিষ্ঠুর। সন্তানের জন্য দুধ কিনতে না পারার কষ্ট কোনো ভাষা দিয়ে কি বোঝানা যাবে! এরপর পরিবারের জন্য খাবার ও চিকিৎসার জোগান দিতে না পেরে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি আমরা। অনেকে শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিয়েও সংসার চালাতে পারছে না। তারপর বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিলের মতো রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় খরচ। এসব কারণে নেমে এসেছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিকভাবেও হতে হচ্ছে হেয়প্রতিপন্ন। আমরা সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতে পারছি না। তারা বলেন, কোম্পানির সব পর্যায়ের ক্রেতা-পরিবেশক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাপ্লায়ারসহ সকলেই পারিবারিকভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। বকেয়া বাড়ি ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, অপরিশোধিত থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন যারা নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান করে আসছিলেন, তারা এ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এ বছর ভ্যাট ও ট্যাক্স দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিটি বিক্রীত পণ্যে এবং অর্জিত আয়ের ওপর ওই কর প্রদান করেন। ডেসটিনি এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো ভ্যাট, ট্যাক্স ও সোর্স ট্যাক্স প্রদান করেছে বলে জানানো হয়।
কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ব্যবস্থা নেওয়া হোক; কিন্তু আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিলে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাদের সেলস কমিশন ও বোনাস পাওয়ার নাগরিক অধিকার রয়েছে। কেন ওই অধিহার হরণ করা হচ্ছে_ তা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তারা।
ডেসটিনির গ্রুপের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত কোটি মানুষের দিকে তাকিয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা পুলিশের অনুমতি নিয়েই মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছিলাম। এর ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে সব দাবি না মানলে দেশের বিভাগীয় শহরে মানববন্ধন, প্রতিটি জেলা শহরে মানববন্ধন, ঢাকায় মহিলা ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ। এরপরও দাবি না মানলে আমরণ গণঅনশন কর্মসূচি করা হবে বলে জানান তারা।

http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=1&pub_no=435&news_type_id=1&index=2

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s