লক্ষ প্রাণের সমাবেশ রমনায়

লক্ষ প্রাণের সমাবেশ রমনায়

৪৫ লাখ মানুষের স্বার্থরক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা য় আমরা কাজ করতে চাই, কাজ করার সুযোগ দিন

ডেসটিনি রিপোর্ট

শুধু কাজ করে নিজের ও পরিবারের জীবন ধারণের নিশ্চয়তার জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা পার্কে সমবেত হয়েছিল ডেসটিনি গ্রুপের প্রায় লাখো গ্রাহক-পরিবেশক।
‘ডেসটিনিতে আমরা ভালো ছিলাম, ভালো থাকতে চাই’, ‘জাগুক যুক্তি, জাগুক মানবতা, দূর হোক ষড়যন্ত্র’,
‘ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবারের ২ কোটি মানুষের মুখে হাসি নেই’_ এমন ক্ষোভ ও আকুতিপূর্ণ ব্যানার বুকে নিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিল ওরা। ডেসটিনির গ্রাহক-পরিবেশক হিসেবে কাজ করে এরা দীর্ঘদিন ধরে নিজের ও পরিবারের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সংস্থান করছিল। বিগত ৬ মাস ধরে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে এরা আজ কর্মহীন, পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিনযাপন করছে। অন্য কোনো উপায় না দেখে তাই গতকাল তারা সমবেত হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানাতে_ সরকারের সাহায্যপ্রার্থী হয়ে।
যদিও রমনা পার্কে জমায়েত হওয়ার আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও নির্বিঘ্ন হতে দেয়নি। তারপরও নিজেদের রুটি-রুজির অধিকার আদায়ের গতকালের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রাহক-পরিবেশকদের আগ্রহমুখর অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ করার মতো। মৎস্য ভবনের সামনে রমনা পার্কের প্রথম গেট থেকে পশ্চিম দিকে দ্বিতীয় গেট অর্থাৎ রমনা রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত গ্রাহক-পরিবেশকদের ছিল ‘জমাটবাঁধা’ অবস্থান। প্রত্যেকের হাতে নানা সেস্নাগান লেখা প্ল্যাকার্ড, মুখে ‘ডেসটিনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ কর’, ‘ডেসটিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দাও, দিতে হবে’ ইত্যাদি সেস্নাগান। এ সময় প্রথম গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য টিয়ারশেল ও জলকামানের গাড়ি নিয়ে ছিল সদাসতর্ক। অন্যদিকে পার্কের সম্মুখভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ গেট অর্থাৎ ঢাকা ক্লাবের সীমানা ঘেঁষে পার্কের খোলা জায়গায় ঘোরাফেরার মধ্যে ছিল হাজার হাজার গ্রাহক-পরিবেশক। এ দুই গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও তাদের খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি।
অন্যদিকে পার্কের ভেতরে গ্রাহক-পরিবেশকদের জমাটবাঁধা অবস্থান ছড়িয়ে ছিল পেছনে কাকরাইল মসজিদের গেট ছাড়িয়ে প্রায় মিন্টো রোডের কাছাকাছি। পার্কের প্রথম গেটের কাছে অবস্থান নেওয়া একটি মূল সমাবেশে সাধারণ গ্রাহক-পরিবেশকরা নিজেদের মতো করে বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিল, কোনো মাইক ছাড়াই। আবার এ সমাবেশের বাইরে একাধিক ছোট ছোট গ্রুপ আলাদা আলাদাভাবে একটানা নানা সেস্নাগান দিয়ে যাচ্ছিল। সমাবেশ ও সমাবেশের বাইরে অংশ নেওয়া সকলের এক কথা, ‘ডেসটিনি গ্রুপের ৪৫ লাখ পরিবারকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচান।’
ডেসটিনি গ্রুপের গ্রাহক-পরিবেশকদের এ অভূতপূর্ব সমাবেশ দেখে অনেকটা বিস্মিত হয়ে গেছেন রমনা পার্কের দ্বিতীয় গেটে দায়িত্বরত সিকিউরিটি কর্মকর্তা মো. আমিনউদ্দিন। তিনি বলেন, শুধু কাজ করার সুযোগ চেয়ে এ ধরনের সমাবেশ আমি কোনোদিন দেখিনি। একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন ময়নামতি ট্রান্সপোর্টের কর্মকর্তা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. মাসুম। শাহবাগ থেকে গাড়ির দীর্ঘ জ্যাম দেখে তিনি হেঁটে আসছিলেন মৎস্য ভবনের দিকে। পার্কের কাছে এসে ডেসটিনির গ্রাহক-পরিবেশকদের সমাবেশ দেখে দাঁড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এমনিতেই দেশে কর্মসংস্থানের অভাব, তারপর এত মানুষ একসঙ্গে বেকার হয়ে গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=1&pub_no=435&news_type_id=1&index=7

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s