ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির চলমান প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা, সম্পদ সুরক্ষা করা এবং লাখ লাখ গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডেসটিনির অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানান। গোলাম হোসেন বলেন, কোম্পানি আইনের ১৯৪ ধারা অনুযায়ী সমবায় থেকে নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শক নিয়োগ করা গেলেও প্রশাসক নিয়োগ করা যায় না। এজন্য প্রয়োজনে কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে। আগামী রোববার অথবা সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য সচিব বলেন, কমিটির তদন্তে মোট ৩ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা সরাসরি তহবিল তসরুফ করেছে ডেসটিনির কর্মকর্তারা। এছাড়া ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এর কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
ডেসটিনিতে প্রশাসক ছাড়াও সহকারী প্রশাসক এবং অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার। প্রশাসকের কাজ হবে ডেসটিনির সচল প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, ডেসটিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণসহ দৈনন্দিন সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনা। এছাড়া অডিটের মাধ্যমে ডেসটিনির সম্পদ নিশ্চিত করে তা যাতে বেহাত না হয় তা দেখভাল করবে প্রশাসক। ডেসটিনির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত কাজ করবে প্রশাসক।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশক্রমে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাণিজ্য সচিব জানান, দুই মাস খুব সংক্ষিপ্ত সময় হলেও নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আরো তদন্ত দরকার। এজন্য সরকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরীক্ষা করবে। এছাড়া ক্রেতা-পরিবেশকরা ন্যায্য আয়কর দিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে রাজস্ব বোর্ডকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে।
বাণিজ্য সচিব বলেন, ডেসটিনির অনিয়ম তদন্তে যেসব মন্ত্রণালয় ও দফতর জড়িত ছিল তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। আগামীতে যাতে এরকম না হয় সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয়কের কাজ করবে।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমএলএম ব্যবসা রয়েছে। তাদের ব্যবসা স্বচ্ছতার সঙ্গে চলছে। তবে ডেসটিনির অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা অস্বচ্ছ ও অলীক। হিসাব দিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টি সচল থাকলেও ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম নেই। ডেসটিনির যেসব অনিয়ম ধরা পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে_ ২২ জন পরিচালক নিজেরাই অধিকাংশ শেয়ার নিজেরা কিনেছেন। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সমবায় আইন ভঙ্গ করে ২৬টি প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদান করেছে। কোম্পানিগুলো যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে সে নিয়ম ভেঙেই ব্যবসা করেছে তারা। ট্রি প্ল্যানটেশনের নামে ১টি গাছ কত-শত জনের কাছে বিক্রি করেছে তার কোনো হিসাব নেই। অদ্ভুত অদ্ভুত পণ্য বিক্রি করেছে। জনগণও তা সরল বিশ্বাসে ক্রয় করেছে। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী ডেসটিনির নিজের পণ্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের কোনো পণ্য ছিল না। তারা বাইরের পণ্য কম দামে কিনে বেশি দামে পরিবেশকদের কাছে বিক্রি করেছে। এটা নিয়মের ব্যত্যয়।
গোলাম হোসেন বলেন, এমএলএম ব্যবসা বৈধ করতে আইন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আইনের একটি খসড়া তৈরি করে তা ভোটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইনটি হয়ে গেলে আর এমএলএম ব্যবসা অবৈধ পন্থায় করতে পারবে না।
বাণিজ্য সচিব বলেন, ডেসটিনি অনিয়ম বা প্রতারণামূলক ব্যবসা যাই করুক না কেন, সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর সঙ্গে ৪৫ লাখ সাধারণ মানুষ জড়িত। এদের আর্থিক সুরক্ষা দিতেই সরকার ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ করবে।

http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=1&pub_no=437&news_type_id=1&index=3

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s