ডেসটিনির ৩ কর্মকর্তার আত্মসমর্পণ

কোর্ট রিপোর্টার

ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ বীরপ্রতীক, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এবং চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকালে তারা স্বেচ্ছায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়। অপরদিকে আইনবহির্ভূতভাবে দুদকের পক্ষে গতকাল আদালতে দুটি মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। কিন্তু বিচারক আবেদন দুটি গ্রহণ করেননি।
গতকাল ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন ঢাকা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী, আবু সাঈদ সাগর, কাজী নজীব উল্লাহ হিরু প্রমুখ আইনজীবী। শুনানিতে তারা বলেন, ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার কোনো অভিযোগ নেই। ডেসটিনির কোনো গ্রাহক প্রতারিত হয়েছে মর্মে দুদকে কেউ অভিযোগ করেননি। শুধু তাদের হয়রানি করার জন্যই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তারা ইতিপূর্বে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়ে জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি। তারা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। যে কোনো শর্তে তারা জামিন মঞ্জুরের আবেদন করেন। জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। দুটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। মামলার তদন্ত চলছে। তিনি বিরোধিতা করেন। বিচারক বেলা ১১টায় শুনানি শেষে দুপুর ১২টায় জামিনের আবেদন নাকচ করে ডেসটিনির তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় ডেসটিনির শতাধিক কর্মী সেস্নাগান দেন। কড়া পুলিশ পাহারায় ডেসটিনির তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ডেসটিনির কর্মীরা বাধা দেন। এ সময় পুলিশ ডেসটিনির কর্মীদের লাঠিপেটা করে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনসহ ডেসটিনির শীর্ষ ২২ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করেছিল একই আদালত।
দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডেসটিনি-২০০০ লিঃ কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি অ্যাকাউন্টে ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আছে। বাকি ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা তারা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s