Archives

জেনারেল হারুনের মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট

জেনারেল হারুনের মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট

ডেসটিনি রিপোর্ট

ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম. হারুন-অর-রশিদ বীরপ্রতীকের মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে এ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া হারুন-অর-রশিদের জামিনের বিষয়ে করা আপিলের ওপর আজ মঙ্গলবার পুনরায় শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত। আপিলের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। দুটি মামলায় জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে গত রোববার হাইকোর্টে আপিল
করেন হারুণ-অর-রশিদ।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু আদালতে বলেন, হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দুদক আইনে উল্লেখিত মানিলন্ডারিংয়ের সংজ্ঞা বা সম্পৃক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে না। কারা কর্তৃপক্ষ ও বিএসএমএমইউ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেওয়া দুটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, হারুণ-অর-রশিদ মারাত্মক অসুস্থ। এ জন্য তার জামিন প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, হারুন-অর-রশিদ একজন সাবেক সেনাপ্রধান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত নয়। তার মামলায় এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর নিম্ন আদালত হারুন-অর-রশিদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে হারুন-অর-রশিদের চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করা হয়। ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল নূ্যনতম অসুস্থ হলে হাসপাতালে পাঠানোর নিশ্চয়তা দেন আদালতকে। একইসঙ্গে ওইদিন জামিন আবেদন শুনানির জন্য রোববার দিন ঠিক করা হয়; কিন্তু রোববার আবেদন যথাযথ না হওয়ায় তা খারিজ করে আদালত। পরে নতুন করে নিম্ন আদালতের জামিন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় হারুন-অর-রশিদের পক্ষ থেকে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর হারুন-অর-রশিদ, রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসাইনসহ ডেসটিনির শীর্ষ ২১ কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল করে মহানগর দায়রা জজ আদালত। দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম গত ৩১ জুলাই অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেন।

Advertisements

সিলেটে ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সভা; ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি

সিলেটে ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সভা
ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি

সিলেট ব্যুরো
সিলেটে ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) উদ্যোগে গত রোববার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর চৌহাট্টায় মানরু শপিং সিটিতে ডিএসটিসির হলরুমে আয়োজিত সভায় বক্তারা এমএলএম খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বর্তমান সরকারসহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার আলোকে আমরা সঠিকভাবে এই ব্যবসা করতে চাই। ডেসটিনির ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের একটাই লক্ষ্য সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এই ব্যবসা করা। তারা বলেন, সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ডেসটিনির ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইছে; আমরা সে উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। সেই সঙ্গে অন্য একটি প্রশ্ন রাখছি_ শুধু প্রশাসক দিয়ে ডেসটিনির ব্যবসা সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কখনো সম্ভব নয়। তাই ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সিলেট ডিডিএফের নেতারা। ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগের আগে প্রয়োজনে ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে জরিপ চালানোর আহ্বান জানান তারা।
ফোরাম নেতারা ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ সব পরিচালকের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তাদের শর্তহীন মুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ারও দাবি জানান। তারা বলেন, কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানে কোনো ক্রেতা-পরিবেশক ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এ পর্যন্ত দেশের কোথায়ও কোনো অভিযোগ করেননি একজন ডিস্ট্রিবিউটরও। মোহাম্মদ রফিকুল আমীন স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের এক কোটি লোককে বেকারমুক্ত করার_ এটাই কি তার অপরাধ? ডেসটিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তা এমএলএম নামে পরিচিত। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তিতর্ক থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ব্যবসা বিদ্যমান রয়েছে। তারা বলেন, ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই নীতিমালা করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রফেসর হেলালের উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন পিএসডি আব্দুস সালাম, পিএসডি আব্দুল গনি খান, দৈনিক ডেসটিনির সিলেট ব্যুরো প্রধান বদরউদ্দিন আহমদ, পিএসডি হুমায়ুন কবীর, পিএসডি শামীম আহমদ, পিএসডি ঋতু দেব, পিএসডি সুরত লাল দাস, পিএসডি বিষ্ণু পদ দে, পিএসডি আব্দুর রাজ্জাক, পিএসডি গোলাম রব্বানী প্রমুখ। বক্তারা আরো বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের ৪৫ লাখ লোককে বেকার ও অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে সরকারকে অসুবিধায় ফেলতে একটি মহল কাজ করছে। ডেসটিনিতে কাজ করে সিলেট অঞ্চলসহ দেশের প্রায় এক লাখ লোক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। প্রায় সাত মাস যাবৎ প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার বেতনভাতা, কমিশন কিছুই না পেয়ে এ বিপুলসংখ্যক লোক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন অতিসত্বর কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো সচল করে দেওয়ার জন্য। তারা বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমরা মনে করি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করে আমাদের মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে আসবেন।

ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) উদ্যোগে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) উদ্যোগে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের (ডিডিএফ) উদ্যোগে গতকাল ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সেলস টিম ব্রাইট অ্যাসোসিয়েটসের বগুড়া ইউনিট অফিসে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পিএসডি মো. সামছুল তাব্রিজ, পিএসডি মো. আব্দুল কাদের, পিএসডি ফিরোজ কবির, পিএসডি নূরুল ইসলাম, পিএসডি সোনাহার বাদশা, পিএসডি ইউসুফ আলী প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন পিএসডি আনোয়ার হোসেন সবুজ। উপস্থাপনায় ছিলেন নজিবুর রহমান। এ সময় এক্সিকিউটিভসহ শতাধিক ডিস্ট্রিবিউটর উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া অফিস।

সম্প্রতি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সেলস টিম অরবিট অ্যাসোসিয়েটসের আসমানিয়া শাখা ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন

সম্প্রতি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সেলস টিম অরবিট অ্যাসোসিয়েটসের আসমানিয়া শাখা ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন

সম্প্রতি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সেলস টিম অরবিট অ্যাসোসিয়েটসের আসমানিয়া শাখা ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট পিএসডি আল অমিন। আরো উপস্থিত ছিলেন পিএসডি রাসেল সরকার, এক্সিকিউটিভ ফরিদ উদ্দিন, সজিবুল ইসলাম, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ সাজ্জাদ ইউসুফ। সভায় তিতাস ও দাউদকান্দি জেলার বিভিন্ন থানা থেকে অর্ধ শতাধিক ডিস্ট্রিবিউটর উপস্থিত ছিলেন।

চাটখিলে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলার প্রতিবাদ ও ব্যবসা উন্নয়ন সভা

চাটখিলে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলার প্রতিবাদ ও ব্যবসা উন্নয়ন সভা

চাটখিল প্রতিনিধি

ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর সেলস টিম ভিক্টোরি অ্যাসোসিয়েটসের চাটখিল ইউনিটের উদ্যোগে গত রোববার বিশেষ ব্যবসা উন্নায়ন ও প্রতিবাদ সভা চাটখিল নেট অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। নেট ইনচার্জ পিএসডি আমিনুল হকের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন পিএসডি মো. নুর উল্যা নয়ন, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন টুটুল, পারভেজ ইসলাম ইউসুপ, আ ন ম হান্নান, ওমর ফারুক হৃদয়, মো. এনামুল হক, রবিউল আলম, এক্সিকিউটিভ ডিস্ট্রিবিউটর সাইদ মোহাম্মদ তুষার, সাংবাদিক মো. নাছির উদ্দিন, মাহমুদ হোসেন সুজন, সুমন মজুমদার, রবিউল আলম, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহিম ও শহিদুল ইসলাম রাবি্ব। এ সময় শতাধিক ডিস্ট্রিবিউটর উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সভায় ডিস্ট্রিবিউটরদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করার প্রতি তাগিদ দেন এবং ডেসটিনির পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে ক্রেতাদের জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারল এম. হারুন-অর-রশিদ বীরপ্রতীক, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ হোসাইনের বিরুদ্ধে দুদকের মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবি জানান।

ডেসটিনির পরিচালকদের জামিন বাতিলের আদেশ কেন বাতিল হবে না : হাইকোর্ট

ডেসটিনি রিপোর্ট

ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ বীরপ্রতীক (অব.) এবং চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ অন্যান্য পরিচালকের জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলের জবাব দিতে দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৫ নভেম্বর রুলের শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত। মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেওয়া জামিন বাতিলের আদেশ বাতিল (কোয়াশমেন্ট) চেয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন গতকাল রোববার একটি আবেদন করেন। আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেয়।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদী আদালতে বলেন, এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মহানগর দায়রা জজ আদালত ডেসটিনির পরিচালকদের জামিন বাতিলের আদেশ দিয়েছে। কেননা ওই আদালত জামিন বাতিলের আইনগত কর্তৃপক্ষ নয়। জামিন বাতিল করে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভুল করেছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দিয়ে কোনো ভুল করেনি। ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদ-াদেশ হতে পারে এমন অভিযুক্ত ছাড়া অন্যদের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং সর্বনিম্ন ৬ মাস কারাদ-াদেশের বিধান রয়েছে। এই আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন পাওয়ার অধিকার আসামিদের রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগে ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ যেসব মানুষের কাছ থেকে ডেসটিনি টাকা নিয়েছে তারা কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। দুদক এ বিষয়ে মামলা করেছে। যে আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে সে আইনের ১৩ ধারায় জামিনের বিধান রয়েছে। তবে সেখানে বলা হয়েছে, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে শুনতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ডেসটিনির পরিচালকদের জামিন দিয়েছে। অথচ জামিনের বিরুদ্ধে দুদক রিভিশন করলে মহানগর দায়রা জজ আদালত জামিন বাতিল করার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঠিক করেনি বলে উল্লেখ করেন।
রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, কোনো উপযুক্ত আদালত যখন কাউকে জামিন দেয় এবং জামিনের অপব্যবহার না করা হলে তখন জামিন ওই ব্যক্তির জন্য অধিকার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে জামিনের অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে নেই। ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদীকে শুনানিতে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট এম এ হামিদ খান ও অ্যাডভোকেট ইয়াসিন করিম। অন্যদিকে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিমউদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ডেসটিনির ৫ শীর্ষ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করেন। পরদিন এই আদেশ আবার তিনি প্রত্যাহার করে নেন। পরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ডেসটিনির ২২ পরিচালকের জামিন বাতিল করেন। এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত রুল জারি করে।
সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। রফিকুল আমীনসহ পাঁচ কর্মকর্তা গত ৬ আগস্ট এ দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পান বাকি ১৭ আসামিও। পরে জামিনের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করে দুদক।
সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হারুন-অর-রশিদ ও ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ হোসাইন, পরিচালক সাঈদ-উর-রহমান, গোফরানুল হক, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানি, ফারাহ দীবা, জমসেদ আরা চৌধুরী, নেপাল চন্দ বিশ্বাস, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকরাম হোসেন সুমন, শিরিন আক্তার, মো. রফিকুল ইসলাম সরকার, মো. মজিবুর রহমান, মো. সুমন আলী খান, মো. সাইদুল ইসলাম খান (রুবেল), মো. আবুল কালাম আজাদ ও লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম।

গাজীপুরে স্মারকলিপি প্রদান ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি ডিস্ট্রিবিউটরদের

গাজীপুরে স্মারকলিপি প্রদান
ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি ডিস্ট্রিবিউটরদের

ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবিতে গতকাল গাজীপুরে ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম বিক্ষোভ (নিচে) করে স্থানীয় এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে স্মারকলিপি দেয় -ডেসটিনি

ডেসটিনি রিপোর্ট
ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম’। ডেসটিনিতে পরিচালক নিয়োগে প্রয়োজনে ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে জরিপ চালানোর আহ্বান জানান ফোরাম নেতারা।
একই সঙ্গে মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ সব পরিচালকের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তাদের শর্তহীন মুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ারও দাবি জানান তারা। ফোরাম নেতারা বলেন, কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানে কোনো ক্রেতা-পরিবেশক ক্ষতিগ্রস্ত হননি।
গতকাল শনিবার ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম গাজীপুর শাখা ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হককে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানায়। ফোরামের গাজীপুর শাখার আহ্বায়ক রায়হান নোবেল এবং সদস্য সচিব শাখাওয়াত হোসেন রনির নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরে সংসদ সদস্যের নিজ বাসভবনে গিয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ডেসটিনি ১২ বছর ধরে যে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তা এমএলএম নামে পরিচিত। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তিতর্ক থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ব্যবসা বিদ্যমান রয়েছে। বহু দেশে এ ব্যবসার আইনি কাঠামোও রয়েছে। ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে আসছে। নীতিমালা তৈরির উদ্যোগে তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের একটি অংশ হীন উদ্দেশ্যে ৪৫ লাখ লোককে বেকার করে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে সরকারকে অসুবিধায় ফেলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ৭ মাস ধরে লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছে তারা। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভুল বুঝে ডেসটিনির পরিচালনা পর্ষদসহ জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু ডেসটিনির কোনো ক্রেতা-পরিবেশক তাদের পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি।
ডেসটিনিতে কাজ করে গাজীপুরের প্রায় এক লাখ লোক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে তারা বলেন, গত সাত মাস প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার বেতনভাতা, কমিশন কিছুই না পেয়ে এ বিপুলসংখ্যক লোক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানান।
ডিস্ট্রিবিউটররা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় তদন্ত, অধিকতর তদন্ত এবং উপর্যুপরি তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে চক্রান্তকারী মহলের একমাত্র লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করা_ বলেন ডিস্ট্রিবিউটররা।
ডিস্ট্রিবিউটররা বলেন, ডেসটিনিতে ভালো ছিলাম, থাকব। কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের অযথা হয়রানি না করার জন্য স্মারকলিপিতে অনুরোধ করা হয়।
ডিস্ট্রিবিউটররা ডেসটিনিতে কোনো প্রশাসক নিয়োগ চান না উল্লেখ করে ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেসটিনিতে পরিচালক নিয়োগে প্রয়োজনে ৪৫ লাখ ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করা যেতে পারে। তারা ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধের আহ্বান জানান।