Archives

চেয়ারম্যান থেকে ভিক্ষুক

জুড়ী প্রতিনিধি

ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, হয়েছেন ভিক্ষুক। দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি। এখন রাজপথে ভিক্ষা করেন। তিনি হলেন মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার তাহির উদ্দিন। শহরের চেনা পথে পরিচিত জনদের কাছ থেকে হাত বাড়িয়ে যা পান, তা দিয়ে চলে তার দিন। এতে তার লজ্জাবোধ নেই। বরং আছে নির্লোভ জীবন যাপনের দীপ্ত অহমিকা। রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের দফাদার ছিলেন তাহির উদ্দিন। ১৯৬২ সালে দফাদার পদে যোগদান করার পর ২০ বছর এ পদে নিয়োজিত ছিলেন। ব্রিটিশ আমলের ‘মায়নর’ পাস তাহির উদ্দিন স্বভাবসুলভ স্পষ্টভাষী এবং স্বাধীনচেতা। এ কারণে ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মজনু মিয়ার সঙ্গে নীতিগত প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে দফাদার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অতঃপর মজনু মিয়ার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘৮৩ সালে নির্বাচিত হন। কিন্তু ভোট সংক্রান্ত পরিকল্পিত মামলার কারণে শপথ গ্রহণে আসে বিধিনিষেধ। একাধিক মামলা ঘাঁটতে ঘাঁটতে চলে যায় পাঁচ বছর। তারপর ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফের বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাহির উদ্দিন। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতায় এ যাত্রায়ও চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসা হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। এক পর্যায়ে আইনি জটিলতা কেটে গেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ মোতাবেক ‘৯৬ সালের ৫ আগস্ট তাহির উদ্দিন চেয়ারম্যান পদে শপথ নিয়ে ক্ষমতা নেন। দুই পর্বের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ২২ মাস সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তাহির উদ্দিন বলেন, নীতি ও দুর্নীতির ভারসাম্য রক্ষাকারী পদের নাম হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান। তার বেশি কিছু বলতে নারাজ তাহির উদ্দিন। তবে তার দুবারের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে প্ররোচিত করে কেউ কোনো অনিয়মের দস্তখত আদায় করতে পারেনি। তাছাড়া এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ৮৮ বছর বয়সী তাহির উদ্দিনের বাড়ি রাজনগর উপজেলার ছিক্কা মধুপুর গ্রামে।
একমাত্র সন্তান গিয়াসুদ্দিন ‘৯৬ সালে জন্ডিস রোগে মৃত্যুবরণ করেন। সংসারে পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি ও স্ত্রী মিলিয়ে পোষ্য ৬ জন। ধানি জমি আছে মাত্র দেড় বিঘা। তাতে সংসার চলে না। তাই লাঠির ওপর ভর দিয়ে প্রতিদিন বের হন তাহির উদ্দিন। মৌলভীবাজার শহরই তার প্রধান চারণভূমি। পরিচিতজনদের সামনে পেলে হাত বাড়ান। তাদের প্রদত্ত ভিক্ষায় চলে তার দিনকাল।

 

http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=65&pub_no=434&news_type_id=1&index=2

ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ভ্যাম্পায়ার জুটি

আজ আনন্দ ডেস্ক

ভাঙতে ভাঙতে জুড়ে যাওয়া, রিল থেকে রিয়াল লাইফ ভ্যাম্পায়ার জুটি রবার্ট প্যাটিনসন ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ব্রেকিং ডন-পার্ট টু ছবির প্রমোশানাল ট্যুরে অংশ নেবেন। সাময়িক বিচ্ছেদ কাটিয়ে সম্পর্ক জোড়া লাগার পর এটাই হবে তাদের প্রথম জনসমক্ষে আসা। নিউইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী টোয়্যালাইট সিরিজের সব শিল্পীকে নিয়ে একটি ওয়ার্ল্ড ট্যুর হওয়ার কথা। প্যাটিনসন-স্টুয়ার্ট জুটি ব্রেকিং ডন টু ছবির লসআঞ্জেলসে প্রিমিয়ারে, লন্ডন, বার্লিন এবং মাদ্রিদে যাবেন। কিছুদিন আগেই স্নো হোয়াইট অ্যান্ড হ্যান্টস্ম্যান-এর পরিচালক রুপার্ট স্যান্ডার্সের সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার জেরে প্রায় ভাঙতে বসেছিল রবার্টের সঙ্গে তার সম্পর্ক। বন্ধুদের চেষ্টায় সে সম্পর্ক এ যাত্রায় টিকে গেলেও প্রচারের আড়ালেই ছিলেন তারা। এই ট্যুরের খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভক্তমহলে।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

এস এম এ আর রাসেল

সুন্দরবন অভ্যন্তর দিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে হুমকির মুখে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বনের অভ্যন্তর দিয়ে নৌপথে চলছে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পণ্যবাহী জাহাজ। সুন্দরবন সুরক্ষায় সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বন বিভাগের অনুরোধ উপেক্ষা করে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সুন্দরবনের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচল করছে পণ্যবাহী জাহাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-খুলনা নৌরুটের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ব্যবহৃত মংলা ও ঘষিয়াখালী চ্যানেল নাব্য সংকটের কারণে বিকল্প রুট হিসেবে ২০১১ সাল থেকে পূর্ব সুন্দরবন অভ্যন্তরের বগী, শরণখোলা, দাশেরভাড়ানী, দুধমুখী, হরিণঘাটা ও চাঁদপাই এলাকার নৌপথ ব্যবহার করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনের অভ্যন্তরীণ রুট দিয়ে ভারী পণ্যবাহী জাহাজ দীর্ঘদিন চলাচল করার ফলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর। জাহাজের হাইড্রোলিক হর্ন ও বিকট শব্দে বণ্যপ্রাণীরা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করছে। স্বাভাবিক চলাফেরা থেকে শুরু করে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য গ্রহণ, সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে বিচরণ ক্ষেত্র। প্রতিনিয়ত এসব জাহাজ চলাচলের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ডলফিনসহ গুরুত্বপূর্ণ জলজপ্রাণীর। প্রজনন বিচরণ ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে বন্য ও জলজপ্রাণীর বংশবিস্তার। বিশাল ঢেউয়ে পাড় ভেঙে সংকীর্ণ হচ্ছে বনের আয়তন। নির্গমন বর্জ্য ও ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ বিষয় পূর্ব সুন্দরবনের ডিএফও মিহির কুমার দে বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে গত বছর এ রুটটি সাময়িক ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ক্ষতির দিগগুলো বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=23&pub_no=434&news_type_id=1&index=2