Tag Archive | destiny-2000

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ডেসটিনি গ্রুপের খোলা চিঠি

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আজ আমাদের ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক, ৮.৫ লাখ শেয়ারহোল্ডার ও দেশব্যাপী ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন লিঃ-এর প্রায় ২৩ লাখ বৃক্ষায়নে বিনিয়োগকারী গ্রাহকসহ সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীর পক্ষ থেকে আপনার বরাবরে এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আপনার কাছে আকুল আবেদন করছি যে, দেশের অন্যতম আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রচুর করদাতা সৃষ্টিকারী বাণিজ্যিক কোম্পানিসমূহ অর্থাৎ আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় ডেসটিনি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ; সংবাদপত্রে সরবরাহকৃত ভুল তথ্য প্রচারের কারণে ব্যবসার অচলাবস্থা থেকে মহান রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছায় এবং আপনার বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনুগ্রহপূর্বক আমাদেরকে রক্ষা করুন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে আপনার নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংকটমোচনে সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছে। আজ গণশত্রুদের ষড়যন্ত্রে ও মহলবিশেষের লাগাতার আক্রমণে আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালকবৃন্দসহ প্রায় ৪৫ লাখ কর্মক্ষম লোকের নিয়মিত আয়, রোজগারের পথ ও জীবনযাত্রার অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে। এই চরম বিপদের মুহূর্তে আমরা সবাই আপনার পূর্ণ সহযোগিতার হাত আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহলবিশেষের হীন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করুন।
আমরা জানি, কোনো ভালো কাজ করতে গেলে তীব্র সমালোচনা ও বাধা আসবেই। তাতে আমরা মোটেও বিচলিত নই। তাই আমি এবং আমার সহযোগী পরিচালক ও কর্মকর্তাগণ ব্যবসার প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায় পথে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমি ও আমাদের সর্বস্তরের পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকল ক্রেতা-পরিবেশক, শেয়ারহোল্ডার, সরবরাহকারী
ও আমাদের নিকট ভাড়ায় দেওয়া অফিস ঘরের মালিকদের সর্বদা সরকারের কর নিয়মিত প্রদানে উৎসাহী ও বাধ্য করে আসছি। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ১০০% ব্যাংকের মাধ্যমে করে আসছি এবং অনলাইন ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করেই আমরা বিগত বছরগুলোতে ১০০ ভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসায়িক কর্মকা- পরিচালনা করে থাকি। আমরা সব ধরনের কর প্রদানের ক্ষেত্রে (ভ্যাট, ট্যাক্স, উৎসে কর, আয়কর ও কাস্টমস ডিউটি) স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় নীতি অনুসরণ করে আপনার সরকারের আমলে রাজস্ব কোষাগারে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে আসছি। সকল ধরনের আয়-ব্যয়ের ডিজিটাল ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও লেনদেনে অ্যাডভান্স ইআরপি পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকি এবং ফিবছর রেজিস্টার্ড অডিট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষিত করে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কোম্পানিসমূহের এজিএম সম্পন্ন করে আবার সকল নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী জনস্বার্থে জাতীয় পত্রিকাসমূহে যথারীতি প্রকাশ করে আসছি। এভাবে আমাদের বিশাল পরিচালনা পর্ষদ দীর্ঘ ১২টি বছর ব্যবসায়িক সকল কর্মকা- অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে; যেখানে সামান্যতম দুর্নীতি তো দূরের কথা, এতটুকু অনিয়মেরও কোনো সম্ভাবনা আমরা রাখিনি। যে কারণে ডেসটিনি-২০০০ লিঃ-এর প্রায় ৪৫ লাখ ভোক্তা-পরিবেশক এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ-এর প্রায় ৮.৫ লাখ শেয়ারহোল্ডার ও ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন লিঃ-এর প্রায় ২৩ লাখ দেশব্যাপী বৃক্ষায়নে বিনিয়োগকারী গ্রাহকের মধ্য থেকে কেউই আজ অবধি আমাদের লেনদেনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করেননি বা করতে পারেননি। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সকল হিসাব সংরক্ষণ করে থাকি। তাই আমাদের ব্যবসা পদ্ধতিতে, লেনদেনে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
অথচ বিগত ৩১ অক্টোবর ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাবরে প্রেরিত জনৈক খুরশিদ আহমেদ খানের ৬ (ছয়) পাতার ভুয়া, বিভ্রান্তিমূলক, অতিকাল্পনিক, মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলক একটি ই-মেইলকে ভিত্তি করে আমাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয় (যদিও ১৯৯৩ সালের ৫ আগস্ট ‘মোহাম্মদ আইয়ুব রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব’ স্বাক্ষরকৃত একটি পরিপত্র, যাহার স্মারক নং ১(৪)৯১-অপরি (সাধারণ)/১৬৩(৩০০) পরিপত্রের প্রথম পর্বের শেষ লাইনটি ছিল… … বেনামী বা নামবিহীন বা ঠিকানাবিহীন দরখাস্তের উপর কোন প্রকার অনুসন্ধান কার্য পরিবচালনা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না… মর্মে উল্লেখ ছিল;)। তৎপরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দাফতরিক তদন্ত নোটিশ ২১ নভেম্বর ২০১১ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাবরে জারির মাধ্যমেই আমাদের প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করার খেলা শুরু হয়। ওইসব সংবাদপত্রে সরকারকেও বিভ্রান্ত করে আমাদের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভুল তথ্যসংবলিত সংবাদ প্রচার করতে থাকে।
অপপ্রচারের প্রথমদিকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায় অবৈধ ব্যাংকিংয়ের দোহাই দেওয়া হয়। তার কিছুদিন পর আমাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ উল্লেখ করে। এবং আরো কিছুদিন পর একই গণমাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির আড়ালে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ ইত্যাদি এনে; তথা মানিলন্ডারিংয়ের কাল্পনিক অভিযোগে অপপ্রচার করতে থাকে। সিন্ডিকেটেড নিউজে বিভ্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘ ৫ পাঁচ মাস যাবৎ আমাদের ৩৫টি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫২টি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করে দেয়, এতে চট্টগ্রাম পোর্টে প্রায় ৬৭ কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য নিলামের হুমকিতে থেকে যায়। পাশাপাশি আমাদের সকল পরিচালকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবসহ তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাবসহ সর্বমোট ৫৩৩টি ব্যাংক হিসাব; দেশের প্রচলিত কোনো সুনির্দিষ্টি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই এবং আমাদেরকে কোনো প্রকারের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অমানবিকভাবে সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখে দেয়; এবং দীর্ঘ ৫ (পাঁচ) মাস যাবৎ প্রায় ৩০০০ (তিন হাজার) কর্মচারী-কর্মকর্তার বেতন ও ঈদ বোনাস বন্ধ রেখে, পাশাপাশি ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের আয়ের সকল ধরনের উৎস ও ব্যবসায়িক কর্মকা- বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসাকে এক বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন করে দেয়। দীর্ঘদিন সকল ব্যবসায়িক কর্মকা- স্থবির করে দেওয়ার পর বিগত ৩১ আগস্ট ২০১২ সালে কলাবাগান থানায় আমাদের সকল পরিচালককে আসামি করে জামিন অযোগ্য মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে দুটি মানিলন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও দুটি মামলার কোনোটিতেই মানিলন্ডারিং আইনের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আলামত বা কীভাবে কোথায় কোন অবস্থানে মানিলন্ডারিং হয়েছে তারও উল্লেখ নেই; বা দায়েরকৃত মামলাগুলোর একটিতেও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা অপরাধের তথ্যসূত্র বা বস্তুনিষ্ঠতার বিন্দুমাত্র লেশ নেই। নেই কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের নিকট থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ বা অপরাধের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা। বরং দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির কাছে ক্রেতাদের প্রাপ্য পণ্য সরবরাহে অনেক দেরি হওয়ায় এখন লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক চরম ক্ষতির সম্মুখীন।
আমরা সবাই, ডেসটিনি গ্রুপের সকল পরিচালক দেশের উচ্চপর্যায়ে করদাতাও বটে; এবং বিগত ৭ বছর ধারাবাহিকভাবে আমাদের ব্যক্তিগত আয়কর সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করে আসছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের সর্বোচ্চ ৫০ জন করদাতার মধ্যে একজন এবং বিগত ২০১০-২০১১ কর বছরে আমার ব্যক্তিগত আয়কর দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার মতো। এছাড়া সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উচ্চ পর্যায়ের সব ক্রেতা-পরিবেশকসহ প্রায় ১০ (দশ) হাজার আয়করদাতার সৃষ্টি হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপে। আমাদের ব্যবসায়ে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতা না এলে, শুধু আমাদের ব্যবসার মাধ্যমেই আগামী অর্থবছরে এই আয়করদাতার সংখ্যা দাঁড়াবে কমবেশি ৫০ (পঞ্চাশ) হাজারের মতো।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে কিছু মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আমাদের ২২ জন পরিচালকের বিরুদ্ধে তথা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠানসমূহের সকল অর্থ স্থানান্তরের মিথ্যা অভিযোগসহ মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করে। তৎপরবর্তীকালে নিম্ন আদালতে আমাদের সকলের প্রাপ্ত আগাম জামিন বাতিল করাসহ বর্তমানে আমাদের সকলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, এবং তা ঢালাওভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারসহ আমাদের বাসাবাড়িতে রাত ২টা, ৩টায় পুলিশি হামলা চালিয়ে, আমাদের ছোট ছোট অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে তাদেরকে অযথা হয়রানিমূলক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে, তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে পুলিশি হামলা চালিয়ে আমাদের সবার সামাজিক মর্যাদা হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তাই এভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে বরং আমাদেরকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য জামিনে রেখে; পুরো বিষয়টির জন্য একটি সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা কমিটি নিয়োগের মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠিত করার স্বার্থে ও সুবিচারকার্য পরিচালনা করার স্বার্থে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমরা সবাই আপনার সুশাসনের আইনের প্রতি বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল। দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় আমাদের বিরুদ্ধে আনীত যে কোনো ধরনের অভিযোগের প্রমাণ হলে, তার বিপরীতে প্রযোজ্য শাস্তি আমরা নির্দ্বিধায় মাথা পেতে নেব। এবং এ উপলক্ষে আমাদেরকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি নিরপেক্ষ দক্ষ অডিট ফার্ম কর্তৃক সকল প্রতিষ্ঠান ও পরিচালকের ব্যক্তিগত সকল হিসাবনিকাশের সঠিক নিরীক্ষার সুযোগ প্রার্থনা করি।
আমি আমার সকল পরিচালকের পক্ষ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণসাপেক্ষে প্রযোজ্য যে কোনো ন্যায়ত শাস্তি আমি এবং আমরা স্বেচ্ছায় মাথা পেতে নেব। তবে লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক, গ্রাহক এবং হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারকে রক্ষার স্বার্থে, ডেসটিনিকে হুমকির মুখে না রেখে সচল রাখার আবেদন জানাচ্ছি। আর এজন্য আমাদের প্রকাশ্যে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সুযোগ চাই। এতে আইনের শাসনের পাশাপাশি লাখো মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
ধন্যবাদান্তে
ডেসটিনি গ্রুপের পক্ষে
মোহাম্মদ রফিকুল আমীন
চেয়ারম্যান, ডেসটিনি গ্রুপ